শনিবার   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১৬ ১৪২৬   ০৫ রজব ১৪৪১

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দিয়েছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মশা যেন ভোট খেয়ে না ফেলে, নতুন মেয়রদের প্রধানমন্ত্রী তাপস-আতিককে শপথ পড়ালেন প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় কিস্তির ২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিটিআরসিকে দিল রবি মাধ্যমিক পর্যন্ত বিজ্ঞান বাধ্যতামূলকের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মাদক মামলায় ‘ক্যাসিনো খালেদের’ বিচার শুরু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে বললেন প্রধানমন্ত্রী আজকের স্বর্ণপদক প্রাপ্তরা ২০৪১ এর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর যে কোন অর্জনের পেছনে দৃঢ় মনোবল এবং আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পেলেন ১৭২ শিক্ষার্থী আজ ১৭২ শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন অশান্ত দিল্লিতে কারফিউ, নিহত ১৭ পিকে হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ বহাল ৭ মার্চ জাতীয় দিবস ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় ১৪ দিনেই ভালো হচ্ছেন করোনা রোগী : আইইডিসিআর মুশফিক-নাঈমে ইনিংস ব্যবধানে দূর্দান্ত জয় টাইগারদের পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস আজ রিফাত হত্যা মামলার আসামি সিফাতের বাবা গ্রেফতার কুষ্টিয়ায় জগো বাহিনীর প্রধানের ফাঁসি, ১১ জনের যাবজ্জীবন
৬০

ইসলামে ঋণের বিধি-বিধান

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২০  

ঋণের আরবি শব্দ ‘কার্য’, যা প্রচলিত বাংলা ভাষায় কর্য নামে পরিচিত। এর বাংলা সমার্থবোধক শব্দ হচ্ছে, দেনা, ধার, হাওলাত ইত্যাদি। ঋণ-কর্য মানুষের তথা সমাজের একটি প্রয়োজনীয় লেনদেন। সমাজে বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তি জীবন-যাপন করার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো সময় ঋণ নেয়ার কিংবা অন্যকে দেয়ার সম্মুখীন হতে হয়।

তবে এই মানবীয় সুন্দর নিয়ম এবং অপরকে সহযোগিতা করার এই ইসলামি সুপ্রথাও অনেক সময় কুমতলবীর চক্রান্তে ও মায়াজালে ফেঁসে বিদ্বেষ, ঝগড়া-ঝাঁটি এমনকি বড় রকমের শক্রতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আর অনেকে তো এই ঋণ প্রথাকেই পুঁজি করে অর্থ জমা করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বে পুঁজিপতি হয়েছে ও হচ্ছে। আর দরিদ্র্য সম্প্রদায় তাদের মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে ঋণের জাঁতায় পিষ্ট হচ্ছে।

আমরা এই প্রবন্ধে ইসলামে ঋণের বিধি-বিধান সম্পর্কে কিছুটা জানার চেষ্টা করব-ইন্শা-আল্লাহ! যেন ঋণের সঠিক বিধান জানতে পারি এবং বেঠিক বিধান হতে নিরাপদে থাকতে পারি। ওয়ামা তাওফীক্বী ইল্লা বিল্লা।

শরীয়তের পরিভাষায় ঋণ: মাল-পণ্য অপরকে প্রদান করা, যেন তার মাধ্যমে সে উপকৃত হয়, অতঃপর দাতাকে সেই মাল কিংবা তার অনুরুপ ফেরত দেয়া। (ফিকহ্ বিশ্বকোষ-খণ্ড: ৩৩,পৃ: ১১১)।

ঋণের বৈধতা: ঋণ প্রথা বৈধ, যা সুন্নত এবং ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা প্রমাণিত। (মুগনী-ইবনু কুদামাহ্ ,৬/৪২৯)।

নবী করিম (সা.) একদা এক উষ্ট্রী ধার নেন এবং ফেরত দেয়ার সময় সেই সমগুণের উষ্ট্রী না পাওয়ার তার থেকে উত্তম গুণের পুরুষ উট ফেরত দেন এবং বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সে, যে উত্তম ঋণ পরিশোধকারী ‘ (সহিহ বুখারী-অধ্যায়: ইস্তিকরায,হা: ৩২৯০)।

ঋণযোগ্য দ্রব্য: অর্থাৎ কী কী জিনিস ঋণ যোগ্য, যা ঋন হিসেবে আদান-প্রদান করা যেতে পারে? এ বিষয়ে ফুকাহাদের মতভেদ বিদ্যমান। তবে নির্ভরযোগ্য মত হচ্ছে, প্রত্যেক এমন বস্তু যা বিক্রিয় করা বৈধ, তা ঋণ দেয়াও বৈধ। (যাদুল মুস্তাক্বনা -হিজাভী/২১২)।

ঋণ প্রদানের ফজিলত: ঋন প্রদান একটি নেকির কাজ, যার মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে। এর মাধ্যমে লোকের সাহায্য করা হয়, তাদের প্রতি দয়া করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের সমস্যা হ্রাস করা হয় কিংবা সমাধান করা হয়।

নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনা মুসলিম ব্যক্তির দুনিয়াবী বিপদ দূর করবে আল্লাহ তায়ালা তার আখিরাতের বিপদ দূর করাবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো অভাবীর কষ্ট সহজ করবে, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও
আখিরাতে তার কর্ম সহজ করবেন। আল্লাহ তায়ালা বান্দার সাহায্য করেন যতক্ষণে বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্য করে।’(সহিহ মুসলিম-অধ্যায়: যিকর, দোয়া, তাওবাহ ও ইস্তিগফার)।

নবী (সা.) আরো বলেন,‘যে কেউ কোনো মুসলিমকে দুই বার ঋণ দেয়, তা সেই অনুযায়ী এক বার সাদাক্বাহ করার মতো।’ (সুনান ইবনু মাজাহ -সূত্র: হাসান, ইরওয়াউল গালীল-হা: ১৩৮৯)।

ঋণ লেন-দেনে মেয়াদ নির্ধারণ: বিষয়টির ব্যাখ্যা হচ্ছে, ঋণ দাতা এবং ঋণ গ্রহীতা লেন-দেনের সময় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করতে পারে কি পারে না? সঠিক মত হচ্ছে, মেয়াদ নির্ধারিত করতে পারে এবং প্রয়োজনে মেয়াদ বৃদ্ধিও করতে পারে। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘হে বিশ্বাসীগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধারে কারবার করবে, তখন তা লিখে রাখবে।’(সূরা: আল বাক্বারাহ, আয়াত: ২৮২)।

অতঃপর মেয়াদ নির্ধারিত থাকলে ঋণদাতা নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ঋণ গ্রহীতার নিকট থেকে ঋণ ফেরত নেয়ার দাবী করতে পারে না। বরং সে নির্ধারিত মেয়াত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য। কারণ নবী (সা.) বলেন,‘মুসলিমরা শর্ত পূরণে বদ্ধপরিকর।’ (মুসনাদ আহমাদ, সুনান আবূ দাউদ, সুনান আত তিরমিযী)।

ঋণের মাধ্যমে লাভ অর্জন: ইসলামে ঋণের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষকে সাহায্য করা, তাদের প্রতি দয়া করা তথা তাদের জীবন-যাপনে সহযোগিতা করা,সহযোগিতার আড়ালে সুবিধা অর্জন নয়। তাই বলা হয়েছে ঋণের উদ্দেশ্য হবে আধ্যাতিক বৃদ্ধি বাহ্যিক বৃদ্ধি নয়। আর তা হচ্ছে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এই কারণে ঋণ গ্রহীতা ঋণ ফেরত দেয়ার সময় যা নিয়েছে তা কিংবা সেই অনুরুপ ফেরত দিতে আদিষ্ট, অতিরিক্ত নয়। ঋণ দাতা এর অতিরিক্ত নিলে কিংবা ঋণ গ্রহীতা অতিরিক্ত ফেরত দিলে, তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ ফিক্হী মূলণীতিতে উল্লেখ হয়েছে-

‘কুল্লু কার্যিন জারা নাফ্আন ফাহুআ রিবা।’

অর্থাৎ- ‘প্রত্যেক ঋণ, যার মাধ্যমে লাভ উপার্জিত হয়, তা সুদ।’

প্রকাশ থাকে যে উপরোল্লিখিত ফিক্হী মূলণীতিটি হাদিস হিসাবে য‘ঈফ (দুর্বল)। (দেখুন: ইরওয়াউল গলীল- আলবানী, হা: ১৩৯৮)।

তবে কায়েদা ফিকহিয়্যাহ (ফিক্হী মূলণীতি) হিসেবে স্বীকৃত।

ঋণের মাধ্যমে লাভের উদাহরণ-

(ক) কাউকে এক হাজার টাকা ধার দেয়া এবং ফেরত নেয়ার সময় বেশি নেয়া। এটা স্পষ্ট সুদ।

(খ) কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ঋণ দেয়া এই উদ্দেশ্যে বা এই শর্তে যে ঋণ গ্রহীতা ঋণ দাতার কিংবা তার পরিবারের কাউকে চাকরি দেবে বা দেয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

(গ) কাউকে ঋণ দেয়া এই উদ্দেশ্যে যে, সে তাকে ঘর বা দোকান ভাড়া দেবে কিংবা এ ধরণের অন্য কিছু, যা সমাজের অনেকাংশে প্রচলিত।

ইসলামে উত্তম ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থা এবং বর্তমান ব্যাংকিং প্রথা, একটি সংশয় নিরসন: ইসলাম ঋণ দেয়াকে যেমন লোকের সাহায্য তথা তাদের কষ্ট দূরীকরণ হিসেবে স্বীকার করে, তেমন ঋণ পরিশোধে উত্তম দৃষ্টান্ত পেশ করে। তাই ঋণ গ্রহীতা ঋণ ফেরত দেয়া সময় বেশি বা উত্তম ফেরত দিতে পারে, যাকে শরীয়াতের পরিভাষায় ‘হুসনুল্ কাযা’ বা উত্তম পরিশোধ বলা হয়।

আবূ রাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘একদা নবী (সা.) এক ব্যক্তি হতে একটি উষ্ট্রী ধার নেন। তার পর সাদাক্বার উট আসলে আবূ রাফি-কে আদেশ দেয়া হয়, সে যেন সেই ব্যক্তির উট ফেরত দেয়। আবূ রাফি (রা.) ফিরে এসে বলে, (সেই সমগুণের উট নেই বরং তার থেকে উত্তম) রুবায়ী মুখতার (এমন পুরুষ উট যা ছয় বছর বয়স অতিক্রম করে সপ্তম বছরে প্রবেশ করেছে এমন) উট আছে। নবী(সা.) বলেন, তাই দিয়ে দাও; কারণ ভালো মানুষ তারা যারা উত্তম পরিশোধকারী। (সহিহ মুসলিম-অধ্যায়: বয়ূ, হা: ৪১০৮, মা: শা: ,হা: ১১৮/১৬০০)।

অনেকে ইসলামের এই সুন্দর বিধান না বুঝতে পেরে, কিংবা না বুঝার ভান করে, কিংবা অপরিপক্ক জ্ঞানের কারণে কিংবা অন্তরে কু-প্রবৃত্তির রোগ থাকার কারণে, বিষয়টিকে বর্তমান ব্যাংকিং প্রথায় অতিরিক্ত প্রদান করা ও অতিরিক্ত গ্রহণ করা বৈধ বলে ফাতাওয়া দিয়েছে। তাদের মন্তব্য, নবী (সা.) যেমন ঋণ ফেরত দেয়ার সময় বেশি দিলেন এবং ঋণ দাতা বেশি গ্রহণ করলেন, তখন আমরা ব্যাংকে ঋণ ফেরত দেয়ার সময় যদি বেশি দেই এবং তারা সেটা গ্রহণ করে তো অবৈধতার কিছু নেই।

উত্তরে বলবো, নবী (সা.)-কে এর ঋণ ফেরত বেশি দেয়া এবং বর্তমান যুগের ব্যাংকিং প্রথায় বেশি লেন-দেনের প্রথার মধ্যে বিরাট পার্থক্য বিদ্যমান।

প্রথমত: নবী (সা.)-কে ঋণ দাতা ঋণ প্রদানের সময় কোনো শর্ত দেয়নি যে, ঋন ফেরত কালে বেশি ফেরত দিতে হব। অন্যদিকে বর্তমান ব্যাংক সুক্ষ্ন হিসেবের মাধ্যমে বেশি দেয়ার শতকরা হার নির্ধারণ করে দেয় এবং নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত না দিতে পারলে শতকরা হার আরো বৃদ্ধি পায়। আসলে ব্যাংক এই চক্রের মাধ্যমেই অর্থায়ন করে থাকে, আর আমরা বুঝেও বুঝি না।

দ্বিতীয়ত: সমাজে এটা পরিচিত চিল না যে,নবী (সা.)-কে ঋণ দিলে তিনি অতিরিক্ত ফেরত দেন। বরং তিনি হঠাৎই এই রকম আদেশ দেন। এই কারণে ইসলামী পণ্ডিতগণের ঐক্যমত রয়েছে যে, যে কোনো যদি বেশি ফেরতের শর্ত থাকে, তাহলে সেটা হারাম।

এই বিভাগের আরো খবর