• মঙ্গলবার   ২০ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৬ ১৪২৮

  • || ০৬ রমজান ১৪৪২

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
করোনায় দেশে ১১২ জনের মৃত্যু হেফাজত নেতা মামুনুল ৭ দিনের রিমান্ডে করোনায় দেশে ১০২ জনের মৃত্যু লকডাউনে ১ কোটি ২৫ লাখ পরিবার পাবে খাদ্য সহায়তা: কাদের হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক গ্রেফতার করোনায় দেশে আজও শতাধিক মৃত্যু হেফাজত নেতা জুবায়ের পাঁচদিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা মাওলানা জালাল গ্রেফতার দেশে করোনায় মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়াল সরবরাহ কম থাকায় চালের দাম বেশি : অর্থমন্ত্রী উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করেছে বিএনপি: কাদের একদিনে করোনায় ৬৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬০২৮ নারায়ণগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় জামায়াত নেতা গ্রেফতার অবকাঠামো নির্মাণকাজ লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে: কাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলমান উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখুন: তাজুল ইসলাম করোনায় একদিনে রেকর্ড ৮৩ জনের মৃত্যু হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে: রেলমন্ত্রী বিশ্বে শান্তি নিশ্চিত করাটাই চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে করোনা শনাক্ত ১১৫ বাজেটে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাত গুরুত্ব পাবে: অর্থমন্ত্রী

উত্তরবঙ্গে নির্বাচনি সফরে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে অস্ত্রের ভাষায় কথা বলার অধিকার কারও নেই। তিনি বলেন, ‘অস্ত্রের ভাষায় এ দেশে কাউকে কথা বলতে দেওয়া হবে না। কেননা, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। অস্ত্রের ভাষায় কথা বলা বা অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’

দেশে আইনের শাসন কায়েম করা হবে

বঙ্গবন্ধু বলেন, তাঁর সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনও অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। বরং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।’ বঙ্গবন্ধু আবারও ঘোষণা করেন, গণতান্ত্রিক নীতি অনুযায়ী, দেশের সকল রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে তাদের মতামত প্রচার করতে পারেন। অবাধে জনগণ তাদের পছন্দমতো যেকোনও প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। দেশের সংবিধানে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে।

মতামত প্রচারে গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলতে হবে

১৯৭৩ সালের এই দিনে রাজশাহীর নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশাল জনসভায় ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসব কথা ঘোষণা করেন। এই বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেন যে, রক্তাক্ত বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর যে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে জাতিকে তিনি শাসনতন্ত্র দিয়েছেন এবং সাধারণ নির্বাচন দিয়েছেন—তার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দলের দৃঢ় আস্থা ছিল বলেই স্বাধীনতার পর অবিশ্বাস্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিচ্ছেন। দেশের সকল বিরোধী দলই তাদের মতবাদ প্রচার করতে পারবেন। তবে মতামত প্রচারে তাদের গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলতে হবে এবং কোনও অবস্থাতেই তারা অগণতান্ত্রিক আচরণের আশ্রয় নিতে পারবে না।

 ১৯৭৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত পত্রিকার প্রধান খবর

তোমরা আমাকে সত্যি ভালোবাসো?

বঙ্গবন্ধু বলেন, তিনি ও তাঁর দল কোনোদিনই ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। আজ বা আগামীতে ক্ষমতার রাজনীতি করবেন না। জনগণের স্বার্থের জন্য সংগ্রাম এবং জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি আর কল্যাণই তাঁর এবং তাঁর দলের একমাত্র লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু বলেন, ইয়াহিয়া ও আইয়ুবের স্বৈরাচারী শাসন আমলে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের দিনগুলোতে জনগণের স্বার্থের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা অপেক্ষা তিনি ফাঁসি মেনে নিয়েছিলেন। জনগণের কল্যাণের সংগ্রামে তাঁর যৌবনের প্রাণ-প্রাচুর্যের দিনগুলো কেটেছে কারান্তরালে। সমবেত জনতার বজ্রকণ্ঠে ভেসে ওঠে—‘বঙ্গবন্ধু, আমরা তোমায় বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা আস্থাশীল।’ বঙ্গবন্ধু সমবেত জনতাকে প্রশ্ন করেন—‘সত্যিই তোমরা আমাকে ভালোবাসো? সত্যিই আমার প্রতি তোমাদের আস্থা আছে?’ লাখো মানুষ একইসঙ্গে বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তোলেন—‘আছে আছে আছে।’ জনতা দুই হাত তুলে তাদের সমর্থন ঘোষণা করে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের হৃদয়ের আবেগ প্রকাশ করে। একইসঙ্গে লাখো মানুষ হাততালি দিতে থাকে। তারা স্লোগান দেয়—‘বঙ্গবন্ধু জিন্দাবাদ, তোমার নেতা আমার নেতা—শেখ মুজিব শেখ মুজিব।’

বাংলাদেশ সোনার দেশ, এ দেশের মানুষ সোনার মানুষ

বঙ্গবন্ধু আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, অতীতে ঔপনিবেশিক আমলে দীর্ঘ কারাবরণ ও নির্যাতন ভোগ সত্ত্বেও সোনার বাংলার স্বপ্ন তাঁর বুকে চির দীপ্তমান ছিল। তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ সোনার দেশ, এ দেশের মানুষ সোনার মানুষ। তিনি বলেন, শিল্প-কৃষিক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়িয়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প বুকে নিয়ে জনগণ যদি নিষ্ঠার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করে, তাহলে তারা নিশ্চয়ই সুখী ও সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘রাতারাতি জনগণের ভাগ্য ফেরানো সম্ভব নয়। দেশের প্রতিটি মানুষকে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে জনগণের ভাগ্য ফেরাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে গড়ে তোলার জন্য জনগণকে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণ যদি স্বাধীনতার ফল ভোগ করতে না পারে, জনগণ যদি অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করতে না পারে, তাহলে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে।’

 দৈনিক বাংলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ভুট্টোর প্রতি বঙ্গবন্ধুর হুঁশিয়ারি

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই মর্মে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, পাকিস্তানের  প্রতিভূ হিসেবে বাঙালিদের আটক রাখার চেষ্টার পরিণতি মারাত্মক হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক বিরাট জনসভায় ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।’ পাকিস্তানের স্বৈরতন্ত্রের স্বেচ্ছাচারিতা ও নির্যাতনের শিকার এসব নিরীহ বাঙালিকে উদ্ধার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাসীর কাছে তাদের প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানান।