• শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৯ ১৪২৭

  • || ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
সবার আগে আমি ভ্যাকসিন নেব : অর্থমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৬, শনাক্ত ৫৮৪ সার্জেন্টের ওপর হামলাকারী সেই যুবক গ্রেপ্তার পিকে হালদারের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে দুদক প্রতিক্রিয়াশীলতা বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র: কাদের সরকারের সাফল্যে বিএনপি উদ্ভ্রান্ত হয়ে গেছে : তথ্যমন্ত্রী বাইডেন কমলাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করছে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় পৌঁছে গেছে করোনার টিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে শুভ সূচনা টাইগারদের পৌর নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে গেলেই কঠোর ব্যবস্থা: কাদের রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে ভাসানচরে নতুন থানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে ঢাকায় টিকা কর্মসূচি শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২০, শনাক্ত ৭০২ চলতি অর্থবছরে ১২ শিল্পনগরী স্থাপন হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কোনো আপস নয়: কাদের মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা এপ্রিলে, বাড়ছে ১১শ’ আসন করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৬, শনাক্ত ৬৯৭ কাউন্সিলর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে: কাদের হাতিয়ায় বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও: ৫ জন গ্রেফতার

কোনো মানুষকেই অবহেলার চোখে না দেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২০  

কোনো মানুষকেই অবহেলার চোখে না দেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকালে নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের ১১৬, ১১৭ ও ১১৮ আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

ওই সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না। দেশের প্রতি প্রত্যেকেরই অবদান রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে যেন সবাই ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে।

‘আপনাদের কাজ মানুষকে সেবা দেয়া। তারা যেন সেটি পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।’

কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘ধর্ষণ, নির্যাতন, কিশোর গ্যাং, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারো মুখ চেয়ে নয়, অপরাধী যে দলেরই হোক তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখতে হবে।’

নবীন কর্মকর্তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুযায়ী চলার আহ্বান জানিয়ে তার কন্যা বলেন, ‘গরিব, দুঃখীদের কথা আপনাদের চিন্তা করতে হবে। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে আপনাদের কাজ করতে হবে।’

সাধারণ মানুষের জন্য কর্মকর্তাদের মেধা, জ্ঞান, বুদ্ধি ও মনন কাজে লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় যেভাবে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে, কোনো সময়েই তা করা হয়নি।

‘চাকরিজীবীরা বাড়ি-গাড়ি কেনার জন্য যেন স্বল্প সুদে ঋণ পান, সে ব্যবস্থা করেছে সরকার। মাঠ পর্যায়েও কাজ করতে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, এ জন্য উপজেলা পর্যন্ত তাদের আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ দেয়া হচ্ছে জনপ্রশাসন পদক।’

কর্মকর্তারা যেন বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণ পেতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে এমন কর্মচারীই আমরা তৈরি করতে চাই।’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার বিষয়টিও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, “অনেক দেশেই করোনার কারণে নতুন করে লকডাউন বা কারফিউ দেয়া হচ্ছে। আমরা এখনও এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।

‘তবে করোনা যেন নতুন করে বিস্তার লাভ না করে এ জন্য সকলকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কারণ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কী বয়ে আনবে, আমরা কেউই জানি না।’

সরকার করোনার টিকাদানে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরই মধ্যে সরকার ভ্যাকসিনের জন্য ব্যবস্থা করেছে। ভ্যাকসিন যখনই বাজারে আসুক আমরা তা পাব।

‘ভ্যাকসিন সংগ্রহ, নিয়ে আসা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোন কাজ কীভাবে করতে হবে, সে নির্দেশনা দেয়া আছে।’

করোনার কারণে যেন কেউ না খেয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘করোনার কারণে বিশ্বে যেকোনো সময় দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশের মানুষ যেন অন্তত খেয়ে বাঁচতে পারে, এ জন্যই খাদ্য উৎপাদনে জোর দেয়া হয়েছে। আমরা নিজেরাও যেন খেতে পারি; প্রয়োজনে অন্যদেরও যেন সাহায্য করতে পারি।’

করোনায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টিও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

তিনি বলেন, ‘করোনার আগে দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ ভাগ। করোনার কারণে তা ধরে রাখা যায়নি। তারপরেও অনেক উন্নত দেশের প্রবৃদ্ধি যেখানে মাইনাসে চলে গেছে, আমরা সেখানে ৫ ভাগে ধরে রাখতে পেরেছি।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে দেশের উন্নয়নযাত্রা ব্যাহত হয়। আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করেই উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

‘আমরা মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এর একটি ২০২১ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ। আপনারা যারা প্রশিক্ষণ শেষ করলেন, এর কর্ণধার হবেন আপনারাই। সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

করোনার কারণে নবীন কর্মকর্তাদের নিজ হাতে সনদ তুলে দিতে না পারার কষ্টের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।