• সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২২ ১৪২৬

  • || ১২ শা'বান ১৪৪১

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: অর্থমন্ত্রী করোনা: ৭৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা না দিলেই ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতি উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আজ থেকে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সমালোচনা করছে বিএনপি : কাদের দেশে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬ জন সুস্থ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে সরকার বিবেচনা করবে: সেনাপ্রধান করোনায় খাদ্য ঘাটতি হবে না : কৃষিমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখ‌ছেন প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কনফারেন্স পিপিই যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় সরকার জনগণের পাশে আছে -প্রধানমন্ত্রী ছুটিতে কর্মস্থল ছাড়া যাবে না : সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন করোনা সংকটকালে জনগণের পাশে থাকবে আ.লীগ: কাদের আমি করোনায় আক্রান্ত হইনি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত নেই : আইইডিসিআর পদ্মা সেতু‌তে বসলো ২৭তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ৪ হাজার ৫০ মিটার সব পোশাক কারখানা বন্ধের নির্দেশ ভোলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নৌ-বাহিনীর টহল

টেকসই পল্লী উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

 


আধুনিক রাষ্ট্রে জনগণকে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়ভার হ্রাস করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় সরকারকে তাই গণতন্ত্রের উর্বর ক্ষেত্র বলে।
ফাইল ছবি
আধুনিক রাষ্ট্রে জনগণকে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়ভার হ্রাস করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় সরকারকে তাই গণতন্ত্রের উর্বর ক্ষেত্র বলে।

প্রকৃতপক্ষে একটি গণতন্ত্র তখনই কার্যকর, যখন সেখানে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক জনগণসহ সব মানুষ রাষ্ট্র শাসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, প্রশ্ন করার ক্ষমতা রাখে এবং জবাবদিহি করতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এখানে কেন্দ্রীয় সরকার তার রাজনৈতিক কর্মসূচির তাগিদে স্থানীয় সরকারের শক্তিমত্তা কাজে লাগায়। নির্বাহী ক্ষমতাকে দুর্বল না করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্র্ণ উপায় স্থানীয় সরকারের কমিটিগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের সামাজিক, আর্থিক এবং বাস্তুসংস্থানগত সমস্যার সমাধানে ১৭টি বৈশ্বিক রূপান্তরমূলক উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকের দ্বারা গৃহীত এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাষ্ট্র, সংস্থা এবং সাধারণ সমাজ তাদের নিজ নিজ দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ।

জাতিসংঘের এ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (এসডিজি) সম্পাদন বা কাক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ব্যাপক প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত উদ্দেশ্যগুলো সমন্বয় ও ভিন্ন ভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে বিদ্যমান পরিকল্পনাগুলো একত্রিত করে স্থানীয় সরকার এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে প্রত্যাশিত প্রশংসা লাভ করতে পারে।

শক্তিশালী স্থানীয় সরকার কার্যকর গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান এবং কার্যকর গণতন্ত্র সুশাসন নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র তখনই কার্যকর, যখন সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক জনগণসহ সব মানুষ রাষ্ট্রের শাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং তারা প্রশ্ন করার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা রাখে।

উপজেলা পরিষদ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের মাঝামাঝি এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক জোটবদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ স্থানীয় এবং জাতীয় সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধের ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়নের শক্তিশালী এজেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ রাখে, যেগুলো সহজেই স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছতে পারে এবং স্থানীয়দের চাহিদা শনাক্ত ও পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করতে পারে।

দুর্ভাগ্যক্রমে, স্থানীয় সরকারে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আমলাতন্ত্রিক মতাদর্শে পরিচালিত, জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এ কারণে স্থানীয় জনসাধারণ স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমে যথাযথভাবে অংশ নিতে পারে না।

স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চার পথে দেশের আর্থ-সামাজিক ভিত্তির দুর্বলতাও অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। অসম অর্থনৈতিক কাঠামোর দরুন সমাজের প্রভাবশালী শ্রেণির দ্বারা স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো প্রভাবিত হয়ে পড়ে।

তারা স্বভাবতই নিজ শ্রেণির স্বার্থ ও তৎসংক্রান্ত উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত। এর ফলে, স্থানীয় সরকার স্থানীয় জনসাধারণকে যথাযথ পরিষেবা প্রদান করতে পারে না।

এ ছাড়া স্থানীয় এলিটদের প্রভাব বিস্তারি উপস্থিতিও সাধারণ জনগণকে স্থানীয় সরকারের অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখে, যে জন্য স্থানীয় সরকার অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর থেকে যাচ্ছে।

পরিস্থিতির উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্বকে ৩ ভাগে ভাগ করা যেতে পারে- (ক) রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, (খ) সামাজিক বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব এবং (গ) প্রতিনিধিত্বের নির্বাচনী এলাকা।

নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দ্বারা প্রকাশ পায়।

প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিটের স্থানীয় সরকার সংস্থা স্থানীয় উন্নয়নকর্মে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে। সংসদ স্থানীয় সরকারের জন্য কী করতে পারে, তা আমাদের সংবিধানে সংজ্ঞায়িত আছে।

সংবিধানের ৬০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সংসদ আইনের দ্বারা স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ করার ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ ও নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করবেন। উপজেলা পরিষদ আইন ২০০৯-এর ২৫ অনুচ্ছেদে উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে এমপির ভূমিকা রাখার বিধান রয়েছে।

এ অনুচ্ছেদে উপজেলা পরিষদকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পরামর্শ নিতে বা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে, যাতে উপজেলা পরিষদ আইন-২০০৯-এর ৪২ (৩) অনুচ্ছেদে উপজেলা পরিষদকে স্থানীয় সাংসদের পরামর্শক্রমে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্যদের উচিত সংসদীয় নীতি অনুসৃত হচ্ছে কিনা, সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম দূরত্ব বজায় রেখে পর্যবেক্ষণ করা।

অধিকন্তু, সরকারি সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণের মাধ্যমে সংসদের নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব পালন দুর্নীতি ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। উপজেলা পরিষদ আইন-২০০৯ অনুসারে, স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে এমপির ভূমিকা ততক্ষণ বিরোধী নয়, যতক্ষণ না তিনি তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের মঙ্গলকে ত্বরান্বিত করতে সচেতন হন।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সংসদ সদস্যদের ‘পরামর্শ’ এক ধরনের কার্যনির্বাহী আদেশে পরিণত হয় এবং সেটা উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ডকে অগ্রাহ্য ও নিয়ন্ত্রণ করে।

সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টামূলক ভূমিকা সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায় পরিণত হয় এবং স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জিজ্ঞেস না করেই তারা গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে তথা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই হস্তক্ষেপ করেন।

অনেক ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), ভিজিএফ, টিআর, বয়স্ক ভাতা ইত্যাদিতে তাদের দলীয় লোকজনের অন্তর্ভুক্তি আছে কিনা, নিশ্চিত করার জন্য বাছাই কমিটি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোয় তাদের দলীয় ব্যক্তিদের মনোনীত করেন। উপজেলা পরিষদকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করার ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ কমিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসাবে বিবেচিত।

সংসদ সদস্যরা আলোচনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এসব কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারেন। এবং মনোনীত প্রতিনিধিরা এ কমিটিগুলোয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবসময় সংসদ সদস্যদের পছন্দ আরোপের চেষ্টা করেন।

সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা-ভূমিকা অনুপস্থিত থাকায় উপজেলা পরিষদের কমিটি ব্যবস্থা নিষ্ফল হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকারের ওপর সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপ স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এটা প্রমাণ করে যে, সেখানে স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোনো অংশ নেই।

সংসদ সদস্যদের অনমনীয় অসহযোগিতা এবং অযৌক্তিক প্রভাব স্থানীয় সরকারকে একটি কার্যকর সংস্থায় পরিণত করার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় আধিপত্য হারানোর উদ্বেগ তাদের শেষ পর্যন্ত সহযোগিতার পরিবর্তে হস্তক্ষেপ করতে ইন্ধন দেয়।

উপজেলা পরিকল্পনার/ব্যবস্থার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে স্থানীয় নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য এবং জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ওপর। সাংসদদের অযাচিত হস্তক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রেই উপজেলা পরিষদের সেবা প্রদানের মহৎ প্রচেষ্টায় বাধা হিসেবে কাজ করে।

সাংসদ ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যে আপাত ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠতে অবশ্যই জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রয়োজন এবং ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলকেই এটা করতে হবে।

গ্রাম বাংলার টেকসই উন্নয়নের জন্য বিকেন্দ্রীকরণ একটি উল্লেখযোগ্য অনুঘটক হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে ন্যায্যতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সংসদ সদস্য, আমলা এবং স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে বিদ্যমান প্রভু-ভৃত্যের কর্তৃত্বমূলক সম্পর্ক মুছে ফেলতে হবে।

এমপিদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তারা তাদের নির্বাচনী এলাকার জনগণ দ্বারা নির্বাচিত এবং তারা যদি ভোটারদের সাধারণ স্বার্থের সুরক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হন তবে পরবর্তী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যর্থ হতে পারেন। সুতরাং সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক সংস্থা হিসেবে স্থানীয় সরকারের কার্যকারিতার জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে স্থানীয় সরকারের কর্মকাণ্ড ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। ব্যবস্থাপনা, সাংগঠনিক প্রচেষ্টা এবং সম্পদের সুষ্ঠু সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারকে এ প্রচেষ্টায় সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয় সরকারের একটি অনুপ্রেরণাদায়ক কাজ হচ্ছে, এটি নারী, দরিদ্র মানুষ, তরুণ এবং প্রান্তিকসহ সমাজের সব অনগ্রসর শ্রেণির জন্য মৌলিক প্রশাসনিক সুবিধা সরবরাহ করে। তথ্যের অভিগম্যতা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য।

জাতীয় লক্ষ্যের স্থানীয়করণ করতে দলমত নির্বিশেষ বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদ্যমান এবং নতুন সিস্টেমগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি।

উন্নয়নকে সত্যিকার অর্থে অর্থবহ করতে, জনগণের ক্ষমতায়নকে টেকসই করতে উন্নয়নের বটম-আপ বা নিম্নক্রম ধরন এখন সময়ের দাবি যা উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে। প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তরে গণতন্ত্রের বিকেন্দ্রীকরণের জন্যও এটি প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল এবং সমাজের সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা বিদ্যমান সমস্যাগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুক এবং গ্রামবাংলার টেকসই উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট হয়ে উঠুক।

ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম : সহযোগী অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর