বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৮ ১৪২৬   ০৭ শা'বান ১৪৪১

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
দেশে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬ জন সুস্থ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে সরকার বিবেচনা করবে: সেনাপ্রধান করোনায় খাদ্য ঘাটতি হবে না : কৃষিমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখ‌ছেন প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কনফারেন্স পিপিই যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় সরকার জনগণের পাশে আছে -প্রধানমন্ত্রী ছুটিতে কর্মস্থল ছাড়া যাবে না : সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন করোনা সংকটকালে জনগণের পাশে থাকবে আ.লীগ: কাদের আমি করোনায় আক্রান্ত হইনি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত নেই : আইইডিসিআর পদ্মা সেতু‌তে বসলো ২৭তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ৪ হাজার ৫০ মিটার সব পোশাক কারখানা বন্ধের নির্দেশ ভোলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নৌ-বাহিনীর টহল পবিত্র শবে বরাত ৯ এপ্রিল অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না : প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নিষেধাজ্ঞা অক্ষরে অক্ষরে পালন করুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২০

ডিসেম্বরেরই সারাদেশের অফগ্রিড এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে সরকার

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ৩ মার্চ ২০২০  

সরকারের পরিকল্পনা বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সারাদেশের অফগ্রিড এলাকাকে বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনা হবে। এজন্য দেশের চারটি বিতরণ কোম্পানিকে অফগ্রিড এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ছয়টি বিতরণ কোম্পানির মধ্যে ঢাকার দুটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বাদে অন্য চারটি কোম্পানি অর্থাৎ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে (ওজোপাডিকো) ডিসেম্বরের মধ্যে অফগ্রিড এলাকাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, আমরা ৯৬ ভাগ এলাকায় এরইমধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছি। আর বাকি আছে চার ভাগ। তবে এই চার ভাগই সবচেয়ে কঠিন। কারণ এই বিদ্যুৎ দিতে হবে অফগ্রিড এলাকায়। অফগ্রিড এলাকাগুলোতে যেসব দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা রয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ দিতে আলাদা কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য এরইমধ্যে আরইবি, নেসকো ও ওজোপাডিকো কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাদের কাজের অগ্রগতি ভালো, তবে পিছিয়ে আছে পিডিবি। কারণ প্রাথমিকভাবে পার্বত্য এলাকায় বিদ্যুতায়নের কাজ দেওয়া হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডকে। কিন্তু তারা যে পরিকল্পনা করেছে তাতে কাজ শেষ হতে ২০২১ সাল হয়ে যাবে। তাই নতুন করে পিডিবির অধীনে স্রেডা ও ইডকলের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের অফগ্রিড এলাকায় সোলার হোম সিস্টেম বা সোলার মিনি গ্রিড বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যেই আমরা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে পারবো বলে আশা করছি।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে গতি বাড়ানোর জন্য চারটি বিতরণ কোম্পানিকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অফগ্রিড এলাকাগুলোর মধ্যে আছে পিডিবির পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলা, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া ও আশুগঞ্জ (চর সোনারামপুর), আরইবির রাঙ্গাবালি উপজেলাসহ এক হাজার ৫৯টি গ্রাম, নেসকোর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চারটি চর এবং ওজোপাডিকোর ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার মনপুরা ও চর কলাতলি।

দেশের সবচেয়ে বড় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানি আরইবির অধীনেই আছে সবচেয়ে বেশি অফগ্রিড এলাকা। তাদের অধীন এক হাজার ৫৯টি গ্রামকে আলোকিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে তারা। সবগুলো গ্রামকে একইসঙ্গে আলোকিত করার কাজ শুরু করা যাবে না বলে, প্রতিষ্ঠানটি তিনটি ফেজে এলাকা ভাগ করে কাজ শুরু করেছে। সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক মালামাল সংগ্রহ, শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে অফগ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আরইবির কর্মকর্তারা।

আরইবির প্রথম ফেজে আছে মোট ৬৪৬টি গ্রাম। এই ফেজে তুলনামূলকভাবে কম প্রত্যন্ত এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ এলাকায় অবস্থিত ৩৫টি স্থানে কম-বেশি দুই কিলোমিটার পর্যন্ত সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে নদী অতিক্রম করে গ্রামগুলোতে গ্রিড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। চলমান প্রকল্পে লাইন ও উপকেন্দ্র নির্মাণের সংস্থান বৃদ্ধি এবং আরইবির অর্থায়নে প্রথম ফেজের কাজ চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে শেষ করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয় ফেজে আছে ৩৮৪টি গ্রাম। এই ফেজে অপেক্ষাকৃত দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত গ্রামগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার ৫০টি স্থানে সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়েছে। নদী বা চরের প্রশস্ততা ক্ষেত্রবিশেষে ১০ বা ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত হওয়ায় সাবমেরিন ক্যাবলের স্পেসিফিকেশন হালনাগাদ করে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে গ্রিড লাইনের বিদ্যুতের সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তৃতীয় ফেজে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার ২৯টি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হবে। এসব গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার গ্রাহকের জন্য সোলার হোম সিস্টেম বা সোলার মিনি গ্রিড স্থাপনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে আরইবি।

বিপিডিবির আওতায় পার্বত্য জেলাগুলোর ২৬টি উপজেলা এবং সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া ও আশুগঞ্জের চর সোনারামপুরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হবে। এরমধ্যে পাঁচটি উপজেলা  ওভারহেড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুতায়ন করা হবে। বাকি ২১টি উপজেলার ৪৫ ভাগ ওভারহেড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুতায়ন করা হবে ডিসেম্বরের মধ্যে। বাকি অংশে প্রায় এক লাখ ৭৮ হাজার সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করছে পিডিবি। সোলার হোম সিস্টেম পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, স্রেডা ও ইডকলের মাধ্যমে স্থাপন করা হবে বলে জানায় তারা।

এদিকে চরগুলোর মধ্যে পিডিবির চলমান প্রকল্পের আওতায় আশুগঞ্জের চর সোনারামপুর ও সন্দ্বীপ উপজেলায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন শেষ হবে। আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং পিডিবির নিজস্ব অর্থায়নে বিতরণ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং হাতিয়া, কুতুবদিয়া দ্বীপের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্রেডা ও ইডকলের মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নেসকোর অফগ্রিড এলাকাগুলো হচ্ছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চারটি চর। এরমধ্যে রাজশাহী জেলার চর মাজার দিয়া, চরখিদিরপুর, চর আশারিয়াদহ এবং চর আলাতুলি এলাকায় সোলার হোম সিস্টেম বা সোলার মিনি গ্রিড স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হবে। এসব এলাকায় ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হবে আশা করছে নেসকো।

ওজোপাডিকোর অধীন আছে ভোলা জেলার মনুপুরা উপজেলার মনপুরা ও চর কলাতলী। সেখানে ২ মেগাওয়াট জেনারেটর স্থাপনের মাধ্যমে ডিসেম্বরের মাধ্যমে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরো খবর