• বুধবার   ২৭ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
জীবন বাঁচাতে জীবিকাও সচল রাখতে হবে: কাদের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৭৩ জন শনাক্ত, মৃত্যু আরও ২০ জনের মমতাকে সহমর্মিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোন মোংলা ও পায়রা বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত মহাবিপদ সংকেত জারি সকালে, রাতের মধ্যে আসতে হবে আশ্রয় কেন্দ্রে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন আম্পানের আঘাতে ১০ ফুটের অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা আরও ১২৫১ করোনা রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ২১ জনের আরও ৭ হাজার কওমি মাদ্রাসাকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তা পায়রা-মংলায় ৭, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেশে একদিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড সমুদ্রসীমায় অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধ করতে হবে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী পাঁচ হাজার টেকনোলজিস্ট নিয়োগের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর করোনা সংক্রমণে বাংলাদেশ কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে: কাদের করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১২৭৩ আম্ফান : সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’, সাগরে ২ নম্বর সংকেত আজ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম করলে দলীয় পরিচয় দিলেও ছাড় হবে না : কাদের স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করলে ঘোর অমানিশা নেমে আসবে : সেতুমন্ত্রী
২২২

তিন কুল : প্রত্যেক বস্তুর বিপদাপদের মোকাবিলায় যথেষ্ট (পর্ব-৩)

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২০  

সূরা আল ইখলাসের অর্থ, নামকরণ, শানে নুযুল, পটভূমি ও বিষয়বস্তু...

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা! আমাদের সবাইকে তিন কুল তথা ‘সূরা ইখলাস, ফালাক্ব এবং নাস’ এই ৩টি সূরার ওপর বেশি বেশি আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য :

নাজিল হওয়ার উপলক্ষ সম্পর্কিত যেসব হাদিসি উপরে বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর ওপর এক নজর বুলালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে এসেছিলেন তখন দুনিয়ার মানুষের ধর্মীয় চিন্তা–ভাবনা ও ধ্যান–ধারণা কি ছিল তা জানা যায়। মূর্তি পূজারী মুশরিকরা কাঠ, পাথর, সোনা, রূপা ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিসের তৈরি খোদার কাল্পনিক মূর্তিসমূহের পূজা করতো। সেই মূর্তিগুলোর আকার, আকৃতি ও দেহাবয়ব ছিল। এ দেবদেবীদের রীতিমত বংশধারাও ছিল। কোনো দেবী এমন ছিল না যার স্বামী ছিল না। আবার কোনো দেবতা এমন ছিল না যার স্ত্রী ছিল না। তাদের খাবার দাবারেরও প্রয়োজন দেখা দিতো। তাদের পূজারীরা তাদের জন্য এসবের ব্যবস্থা করতো। মুশরিকদের একটি বিরাট দল খোদার মানুষের রূপ ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করায় বিশ্বাস করতো এবং তারা মনে করতো কিছু মানুষ খোদার অবতার হয়ে থাকে। 

খৃষ্টানরা এক খোদায় বিশ্বাসী হলেও তাদের খোদার কমপক্ষে একটি পুত্র তো ছিলই এবং পিতা পুত্রের সঙ্গে খোদায়ী সাম্রাজ্য পরিচালনার ব্যাপারে রুহুল কুদুসও (জিবরাইল) অংশীদার ছিলেন। এমন কি খোদার মাও ছিল এবং শাশুড়ীও। ইহুদীরাও এক খোদাকে মেনে চলার দাবীদার ছিল কিন্তু তাদের খোদাও বস্তুসত্তা ও মরদেহ এবং অন্যান্য মানবিক গুণাবলীর উর্ধে ছিল না। তাদের এ খোদা টহল দিতো, মানুষের আকার ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করতো। নিজের কোনো বান্দার সঙ্গে কুশ্তিও লড়তো। তার একটি পুত্রও (উযাইর) ছিল। এ ধর্মীয় দলগুলো ছাড়া আরো ছিল মাজূসী– অগ্নি উপাসক ও সাবী- তারকা পূজারী দল। এ অবস্থায় যখন লোকদেরকে এক ও লা- শারীক আল্লাহর আনুগত্য করার দাওয়াত দেয়া হয় তখন তাদের মনে এ প্রশ্ন জাগা নিতান্ত স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল যে, সেই রবটি কেমন, সমস্ত রব ও মাবুদদেরকে বাদ দিয়ে যাকে একমাত্র রব ও মাবুদ হিসেবে মেনে নেয়ার দাওয়াত দেয়া হচ্ছে? এটা কোরআনের অলৌকিক প্রকাশভংগীরই কৃতিত্ব। এ সমস্ত প্রশ্নের জবাব মাত্র কয়েকটি শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করে কোরআন মূলত আল্লাহ অস্তিত্বের এমন সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ধারণা পেশ করে দিয়েছে, যা সব ধরনের মুশরিকী চিন্তা ও ধ্যান-ধারণার মূলোৎপাটন করে এবং আল্লাহর সত্তার সঙ্গে সৃষ্টির গুণাবলীর মধ্য থেকে কোনো একটি গুণকেও সংযুক্ত করার কোনো অবকাশই রাখেনি।

শ্রেষ্টত্ব ও গুরুত্ব :

এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৃষ্টিতে ইখলাস সূরাটি ছিল বিপুল মহত্বের অধিকারী। বিভিন্নভাবে তিনি মুসলমানদেরকে এ গুরুত্ব অনুভব করাতেন। তারা যাতে এ সূরাটি বেশি করে পড়ে এবং জনগণের মধ্যে একে বেশি করে ছড়িয়ে দেয় এ জন্য ছিল তাঁর এ প্রচেষ্টা। কারণ এখানে ইসলামের প্রাথমিক ও মৌলিক আকীদাকে (তাওহীদ ) এমন ছোট ছোট চারটি বাক্যের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে, যা শুনার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের মনে গেঁথে যায় এবং তারা সহজেই মুখে মুখে সেগুলো আওড়াতে পারে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদ্ধতিতে লোকদের বলেছেন, সূরা ইখলাস কোরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান— এ মর্মে হাদিসের কিতাবগুলোতে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বুখারী, তিরমিযী , মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহামাদ, তাবারানী ইত্যাদি কিতাবগুলোতে বহু হাদিস আবু সাঈদ, খুদরী, আবু হুরাইরা, আবু আইয়ুব আনসারী, কুলসুম বিনতে উকবাহ ইবনে আবী মুআইত, ইবনে ওমর, ইবনে মাসউদ, কাতাদাহ ইবনুন নূমান, আনাস ইবনে মালেক ও আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হয়েছে। মুফাসসিরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ উক্তির বহু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন।

তবে আমাদের মতে সহজ, সরল ও পরিস্কার কথা হচ্ছে, কোরআন মজিদ যে দ্বীন ও জীবন ব্যবস্থা পেশ করে তার ভিত্তি রাখা হয়েছে তিনটি বুনিয়াদী আকীদার ওপর। (এক) তাওহীদ। (দুই) রিসালাত। (তিন) আখেরাত। এ সূরাটি যেহেতু নির্ভেজাল তাওহীদ তত্ব বর্ণনা করেছেন তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) একে কোরআনের এক–তৃতীয়াংশের সমান গণ্য করেছেন।

হজরত আয়েশার (রা.) একটি রেওয়ায়াত বুখারী ও মুসলিম এবং হাদিসের অন্যান্য কিতাবগুলোতে উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক অভিযানে এক সাহাবীকে সরদারের দায়িত্ব দিয়ে পাঠান। তিনি সমগ্র সফলকালে প্রত্যেক নামাজে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পড়ে কিরআত শেষ করতেন। এটা যেন তার স্থায়ী রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ফিরে আসার পর তার সাথীরা রাসূলুল্লাহ (সা.) কাছে একথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাকে জিজ্ঞেস করো, সে কেন এমনটি করেছিল? তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দেন: এতে রহমানের গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এর পাঠ আমার অত্যন্ত প্রিয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) একথা শুনে লোকদের বলেন: ‘তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।’

প্রায় এ একই ঘটনা বুখারী শরিফে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বললেন, জনৈক আনসারী কুবার মসজিদে নামাজ পড়াতেন। তার নিয়ম ছিল, তিনি প্রত্যেক রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন। তারপর অন্য কোনো সূরা পড়তেন। লোকেরা এ ব্যাপারে আপত্তি উঠায়। তারা বলেন, তুমি এ কেমন কাজ করছো, প্রথমে সূরা ইখলাস পড়ো তারপর তাকে যথেষ্ট মনে না করে আবার তার সঙ্গে আর একটি সূরা পড়ো? এটা ঠিক নয়। শুধূমাত্র ‘কুল হুওয়াল্লাহ’ পড়ো অথবা একে বাদ দিয়ে অন্য একটি সূরা পড়ো। তিনি জবাব দেন, আমি এটা ছাড়তে পারবো না। তোমরা চাইলে আমি তোমাদের নামাজ পড়াবো অথবা ইমামতি ছেড়ে দেবো। কিন্তু লোকেরা তার জায়গায় আর কাউকে ইমাম বানানোও পছন্দ করতো না। অবশেষে ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহর (সা.) সামনে আসে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার সাথীরা যা চায় তা করতে তোমার বাধা কোথায়? কোন জিনিসটি তোমাকে প্রত্যেক রাকতে এ সূরাটি পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে? তিনি বলেন: এ সূরাটিকে আমি খুব ভালোবাসি। রাসূলুল্লাহ (সা.) জবাবে বলেন: ‘এ সূরার প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে।’

সূরা আল ইখলাসের আরবি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ :

পবিত্র কোরআন শরিফের ১১২ নম্বর সূরা হচ্ছে ‘সূরা ইখলাস’। এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১টি। 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)

(১)
قُلْ هُوَ اللَّـهُ أَحَدٌ
কুল্ হুওয়াল্লা-হু আহাদ্

বলুন, তিনি আল্লাহ, এক।

(২)
اللَّـهُ الصَّمَدُ
আল্লা-হুচ্ছমাদ্ 

আল্লাহ অমুখাপেক্ষী

(৩)
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
লাম্ ইয়ালিদ্ অলাম্ ইয়ূলাদ্

তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি

(৪)
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
‌অলাম্ ইয়া কুল্লাহূ কুফুওয়ান্ আহাদ্ 

এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

চলবে...

সূত্র: ইসলামেরবাণী.নেট

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর