• শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
৩ হাজার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগে অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী মানুষকে সুরক্ষিত করতে প্রাণপণে চেষ্টা করছি: প্রধানমন্ত্রী করোনায় মৃত্যুর মিছিলে আরও ৩৫ জন, নতুন শনাক্ত ২৪২৩ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩৭ মৃত্যু, শনাক্ত আরও ২৬৯৫ আজ থেকে চলবে আরও ৯ জোড়া ট্রেন হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ: তথ্যমন্ত্রী যেকোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারব: প্রধানমন্ত্রী সময় যত কঠিনই হোক দুর্নীতি ঘটলেই আইনি ব্যবস্থা: দুদক চেয়ারম্যান জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর করোনা বিশ্ব বদলে দিলেও বিএনপিকে বদলাতে পারেনি: কাদের করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১১ সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী সারা দেশকে লাল, সবুজ ও হলুদ জোনে ভাগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৩৮১ জনের করোনা শনাক্ত পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চলছে: রেলমন্ত্রী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৪৫ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ৪০ জন বাস ভাড়া যৌক্তিক সমন্বয়, প্রজ্ঞাপন আজই: ওবায়দুল কাদের এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো না: প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে এসএসসির ফল প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী
৫১৮

হাত নেই, মুখে চামচ নিয়ে এভাবেই বৃদ্ধ মাকে খাওয়ান ছেলে

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০১৯  

একটি বৃদ্ধার মুখে চামচে করে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন তার ছেলে। একটি ছবিই অনেক কথা বলে দেয়। নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন ছেলেটির নেই দুটি হাত। তাতে কি? মুখ তো আছে। আর তাই স্বম্বল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও তাকে ঠেকাতে পারেনি। 

 

চেন জিনিন

চেন জিনিন

জীবন যুদ্ধে মাকে নিয়ে লড়াই করা এই ব্যক্তির নাম চেন জিনিন। চীনের দক্ষিণ পশ্চিমের চঙ্কিংয়ে মাকে নিয়ে বসবাস তার। মাত্র সাত বছর বয়সে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের শিকার হয়ে দুই হাত হারায় চেন। সেই তখন থেকেই চেনের দুই হাত ছাড়া জীবন চালানোর লড়াই শুরু। মাঠে কাজ করা, রান্না করা এমনকি মাকে খাওয়ানো সবই করছে সে। এছাড়াও বাড়ির সব ধরণের কাজেও পারদর্শী অসামান্য এই ব্যক্তি।

 

হাত ছাড়াই সব কাজই করতে পারেন তিনি

হাত ছাড়াই সব কাজই করতে পারেন তিনি

বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কাছে সন্তানই তার শেষ আশ্রয়। বাবা-মা যেমন সন্তানকে ছোট থেকে বড় করে তোলে। ঠিক তেমনই বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাও তার সন্তানের কাছে সেই ছোট শিশুর মতই হয়ে যায়। কারণ এসময় তারা বয়সের ভারে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। তাই সন্তানদের উচিত বৃদ্ধ বয়সে তাদের সেবা যত্নে অবহেলা না করা। অনেকেই আছেন যারা বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসতেও পিছপা হন না। তাদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই চেন। 

 

জীবন যুদ্ধে লড়াকু সৈনিক

জীবন যুদ্ধে লড়াকু সৈনিক

প্রতি বছরই চেনের ৯৬ বছর বয়সী মা ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ২০১৫ সালে তার মা প্যারালাইজড হয়ে যান। হাত পর্যন্তও নড়াতে পারেন না তিনি। এরপর থেকেই বিছানায় তার জীবন কাটছে। অন্যদিকে, ছেলে চেনের দুটি হাত না থাকা স্বত্তেও মায়ের দেখাশুনার কমতি রাখছেন না। বিগত ৩৩ বছর ধরে প্রতিদিন মুখ দিয়ে চামচের মাধ্যমে বৃদ্ধ মায়ের মুখে খাবার তুলে দেন চেন। মায়ের জন্য তিন বেলায় খাবার রান্না করেন তিনি। 

 

দুটি পা-ই তার ভরসা

দুটি পা-ই তার ভরসা

শারীরিক বাধা পেড়িয়ে চেন আজো জীবন যুদ্ধ জয় করতে ব্যস্ত। তার বয়স যখন ১৪ ঠিক তখন থেকেই কৃষি কাজ শুরু করে সে। সঙ্গে মহিষ ও ছাগল পালন করতে থাকেন চেন। ২০ বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। সংসারের হাল টেনে ধরেন তার মা। দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত হতে থাকে পুরো পরিবার। মাকে দেখা শোনা না করে অন্য ভাই বোনেরা পরিবার থেকে সরে যান একে একে। 

 

তরকারি কাটছেন

তরকারি কাটছেন

তবে মায়ের ভালবাসা ছেড়ে কোথাও যায়নি চেন। তিসি বসে না থেকে মাকে সাহায্য করার জন্য রান্না করা শিখেন। পা দিয়েই গৃহস্থলির সব কাজ করার অভ্যাস গড়েন। এখন তিনি পা দিয়েই সবজি কাটা, রান্না করা, চুলা জ্বালানোসহ সবকিছুই করতে পারেন। এমনকি ক্ষেত থেকে ভুট্টা সংরক্ষণ এমনকি বাড়ি এনে সেগুলো থেকে বীজ সংরক্ষণও করেন এই সাহসী যোদ্ধা। 

 

ভুট্টার বীজ ছাড়াচ্ছেন

ভুট্টার বীজ ছাড়াচ্ছেন

নিজের ক্ষেতে চাষাবাদও করছেন তিনি একা। তার রয়েছে ২৪টি ছাগল, দুইটি মহিষ ও চারটি মুরগি। প্রতিবছর লাভের অঙ্কটাও বেশ বাড়াচ্ছেন চেন। তবে শীতকালে দুই পা দিয়ে কাজ-কর্ম করতে বেশ কষ্ট হয় চেনের। এলাকাবাসীরা অবশ্য চেনকে বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাততে বলেন। তবে নারাজ চেন। তার মতে, আমার হাত দুটি নেই তাতে কি? আমার সুন্দর দুটি পা রয়েছে।’

 

রান্না করছেন চেন

রান্না করছেন চেন

মাকে নিয়ে তার চিন্তার যেন শেষ নেই। বাড়িতে না থাকার সময় মায়ের যদি কিছু প্রয়োজন পড়ে কিংবা তার শরীর যদি খারাপ হয়ে পড়ে! এসব ভেবে প্রতিবেশীদের সাহায্য নেন চেন। কিছুক্ষণ পরপর তার মাকে দেখে রাখার জন্য প্রতিবেশীদের অনুরোধ করেন তিনি।

ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর