• শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৫ ১৪৩১

  • || ১২ মুহররম ১৪৪৬

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুলাই স্পেন যাবেন প্রধানমন্ত্রী আমার বিশ্বাস শিক্ষার্থীরা আদালতে ন্যায়বিচারই পাবে: প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মার জন্য তাৎপর্যময় ও শোকের দিন আশুরার মর্মবাণী ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জাও করে না : প্রধানমন্ত্রী দুঃখ লাগছে, রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও বলে তারা রাজাকার শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ ‘চীন কিছু দেয়নি, ভারতের সঙ্গে গোলামি চুক্তি’ বলা মানসিক অসুস্থতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী : প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করুন চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পিত ও দক্ষ জনসংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করতে চায় চীন: শি জিনপিং চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

ভোলায় গুলিবিদ্ধ সেই নৌ-পুলিশের এএসআইকে ঢাকায় রেফার

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৪  

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা নৌ-থানার মধ্যে নিজের পিস্তল থেকে বের হওয়া গুলিতে আহত হওয়া পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মোক্তার হোসেন মিঞাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা (শেবাচিম) হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে। নৌ-পুলিশ বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কাফিল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, বরিশাল শের-ই বাংলা হাসপাতালে মোক্তার হোসেনের সফল অস্ত্রোপচার হলেও তিনি শঙ্কামুক্ত নন। সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাধীন থাকবেন। তার সেবাযত্ন করার জন্য পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি তার আত্মীয়স্বজনরা আছেন। নৌ-থানার ওসি বিদ্যুৎ কুমার বড়ুয়া এবং দুই পুলিশ কনস্টেবল এ কয়েকদিন শেরেবাংলা হাসপাতালে তার সেবাযত্ন করেছিলেন। দুপুরের দিকে তারা ইলিশা নৌ-থানায় চলে গেছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান আমি। অপর দু’জনের একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এবং আরেকজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি)। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও, তাতে কিছুটা বিলম্ব হবে। কারণ, যিনি ভিক্টিম, তিনি এখনো অসুস্থ। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব না। ভিক্টিমের বক্তব্য ব্যতীত তদন্ত প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ থাকে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কাফিল উদ্দিন আরও বলেন, যেহেতু আমি তদন্ত কমিটির প্রধান, সেহেতু আমি আজ (মঙ্গলবার) সকালে ঘটনাস্থল পূর্ব ইলিশা নৌ-থানায় গিয়েছি। দুপুর পর্যন্ত আমি থানায় ছিলাম। এখন পর্যন্ত যে বিষয়টি খোঁজে পেলাম, তাতে এটি মিস ফায়ার বলেই প্রতিমান হয়।

গণমাধ্যমের প্রতি অসন্তুষ্টি জানিয়ে তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে মোক্তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে থানার মধ্যে হইচই ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো গণমাধ্যমে লেখা হয়েছে ওসির সঙ্গে মনোমালিন্যর জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেটি একেবারেই অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর।

মিস ফায়ার একটি স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকক্ষেত্রে অস্ত্রের সেফটি লক করা থাকে না। এটি একটি বড় ভুল। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে মাঝেমধ্যে এরকম মিস ফায়ারের ঘটনা ঘটে। এটির কারণে অনেকক্ষেত্রে যার অস্ত্র থেকে মিস ফায়ার হয়, তাকে জবাবদিহিতা দিতে হয়। মোক্তার হোসেন মিঞার ঘটনাটি একটি মিস ফায়ার ব্যতীত অন্য কিছু না। একজন ওসির সঙ্গে যদি একজন এসআই অথবা এএসআইয়ের মনোমালিন্যও থাকে, সেক্ষেত্রে কি ওসি গুলি করতে পারে? ওসি কি এতটাই মানসিক ভারসাম্যহীন? এটি একেবারেই একটি ভ্রান্ত ধারণা।

সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এ ঘটনায় গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মোক্তার হোসেন গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওসিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে নিয়ে ভোলা-বরিশাল হাসপাতালে দৌড়াদৌড়িতে ছিল। তখন কি গণমাধ্যমে কথা বলার মতো অবস্থা ওসির ছিল? এছাড়াও এসব সেনসিটিভ ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

উল্লেখ, গত রোববার (২৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা নৌ-থানার মধ্যে নিজের নামে ইস্যু করা তারাশ পিস্তল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওই থানায় কর্মরত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোক্তার হোসেন মিঞা। তিনি দুইবছর ধরে ওই থানায় কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই। ট্রিগারে অসাবধানতাবশত চাপ লেগে তার পিস্তল থেকে একটি গুলি বের হয়ে পেটের সামনে দিয়ে ঢুকে, পেছন দিয়ে বের হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ভোলা ও পরে বরিশাল শেরেবাংলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল শেবাচিম হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার শেষ হয়। এরপরও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যদিও গুঞ্জন ছিল ওসির সঙ্গে মোক্তার হোসেনের মনোমালিন্য ছিল। যাঁর কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।