• রোববার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৮

  • || ১৭ সফর ১৪৪৩

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদারের দাবি প্রধানমন্ত্রীর করোনার টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী’ ঘোষণার আহ্বান কুয়েত ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক দেশের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিশীল খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান এসডিজি’র উন্নতিতে জাতিসংঘে পুরস্কৃত বাংলাদেশ নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী টিকা নেওয়ার পর খোলার সিদ্ধান্ত নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় নিতে পারবে বঙ্গবন্ধু ভাষণের দিনকে এবারও ‘বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে’ ঘোষণা ফিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর অংশগ্রহণ চান প্রধানমন্ত্রী `লাশের নামে একটা বাক্সো সাজিয়ে-গুজিয়ে আনা হয়েছিল` টকশোতে কে কী বলল ওসব নিয়ে দেশ পরিচালনা করি না: প্রধানমন্ত্রী উপহারের ঘরে দুর্নীতি তদন্তে দুদককে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী জিয়াকে আসামি করতে চেয়েছিলাম: প্রধানমন্ত্রী এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি, এটা কারা করল? ওজোন স্তর রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে ওজোন স্তর রক্ষায় সিএফসি গ্যাসনির্ভর যন্ত্রের ব্যবহার কমাতে হবে ১২ বছরের শিক্ষার্থীরা টিকার আওতায় আসছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী

কমনওয়েলথ সম্মেলনের প্রথম ভাষণে যা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০২১  

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমনওয়েলথ সম্মেলনে বলেছেন, উপমহাদেশে স্থায়ী শান্তির অন্বেষায় আমরা রত, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা নীরবে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এশিয়ার নিরঙ্কুশ শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি ঐকান্তিক প্রচেষ্টার সাথে আমরা একাত্ম হতে চাই উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমরা সেই আকাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক পরিবেশকে স্বাগত জানাই, যেখানে সংঘর্ষের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হবে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতা।’ উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

বঙ্গবন্ধু মন্তব্য করেন, যে বাস্তবতা সেখানে পাকিস্তানের ব্যর্থতাই উপমহাদেশে সমস্যাবলীর সমাধান এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে প্রধান অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমনওয়েলথ সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন যে, ‘শান্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার সর্বাত্মক।’ বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘এইতো সেদিন আমরা যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসের শিকার হয়েছি। জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে দাবিয়ে রাখার জন্য প্রচুর শক্তি প্রয়োগের বিভীষিকার অভিজ্ঞতা যে কত মর্মান্তিক, তা আমরা জানি। শান্তির পথে আমাদের অঙ্গীকার সর্বাত্মক। আর এজন্যই উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে তোলা এবং উপমহাদেশে নিরঙ্কুশ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে ত্রুটি রাখিনি।’

 

দৈনিক ইত্তেফাক, ৪ আগস্ট ১৯৭৩ বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বর্বরতার গভীর ক্ষত সত্ত্বেও আমাদের প্রচেষ্টা হলো— এই ক্ষত ভুলে যাবার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার জন্মভূমিকে একথা বুঝিয়েছি যে, অতীতের দিকে নয়, তাকাতে হবে ভবিষ্যতের দিকে নতুন দিগন্তে। উপমহাদেশের অনাবিল শান্তির অন্বেষণে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।’

দেশগুলোকে সমস্যা ভাগ করে নিতে হবে

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমনওয়েলথ সম্মেলনে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন— ‘‘অনুন্নত দেশগুলোর সমস্যা ও উদ্বেগের ভাগ নেওয়ার জন্য। যে প্রক্রিয়ার ফলে গোটা বিশ্ব আজ  সীমাহীন হাহাকারের এক বিক্ষুব্ধ সমুদ্রে গুটিকয় ‘সব পেয়েছি’র দ্বীপে পরিণত হওয়ার সম্মুখীন হয়েছে, সেই চরম পরিণতি থেকে বিশ্বকে রক্ষার জন্য বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে অনুন্নত দেশগুলো সমস্যাবলী ও উদ্বেগের ভাগ নিতে হবে।’’

বাঙালিদের আটকে রাখার ফলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পাকিস্তানে বাঙালিদের দিনের পর দিন অন্যায়ভাবে আটকে রাখার ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। পাকিস্তান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে, তার সংবিধানে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে।’ বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে, দিচ্ছে। পাকিস্তান ঠিক তখনই তার সংবিধানে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।’

অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য আহ্বান জানান। অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধে কমনওয়েলথ জনমত গড়ে তুলবে— এই আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন রাখেন— পৃথিবীতে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমরা কি সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে পারি না?’ বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। ভিয়েতনাম প্রশ্নে প্যারিস শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং কম্বোডিয়ায় অবিলম্বে বোমা বর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি অবজারভার, ৪ আগস্ট ১৯৭৩ গ্রামীণ জনগণের প্রতি সমর্থন

দক্ষিণ আফ্রিকা, রোডেশিয়া ও মোজাম্বিক প্রভৃতি দেশের মুক্তিকামী জনগণের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এসব দেশের নির্যাতিত জনগণ উপনিবেশবাদী, সাম্রাজ্যবাদী ও বর্ণবৈষম্যবাদ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাদের জাতীয় মুক্তির জন্য যারা মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতার মূল্য দিয়ে থাকেন। এসব দেশের জনগণের সংগ্রামে তাদের সমর্থন করতে হবে। উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত নির্যাতিত মানুষের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। বঙ্গবন্ধু মোজাম্বিকের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেন এবং বলেন, ‘ইসরায়েল কর্তৃক অব্যাহতভাবে আরব এলাকা দখল শান্তির প্রতি এক দারুন হুমকি।’

এদিকে হাজারো কর্ম ব্যস্ততার মধ্যেও দেশবাসীর খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রথম সুযোগেই তিনি যোগাযোগ করেন এবং দেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। কথাবার্তা বলার সময় তিনি শিল্পমন্ত্রীকে জানান যে, তিনি ভালোই আছেন এবং ১৩ আগস্ট দেশে ফিরবেন।