• শুক্রবার   ১৯ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ২০ মুহররম ১৪৪৪

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আ. লীগের নেতারা কী করেছিলেন: প্রধানমন্ত্রী সুশীল বাবু মইনুল খুনিদের নিয়ে দল গঠন করে: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতরা আজ মানবাধিকারের কথা বলে: প্রধানমন্ত্রী ভারত পারলে আমরাও রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবো: প্রধানমন্ত্রী ‘ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছি’ খবরদার আন্দোলনকারীদের ডিস্টার্ব করবেন না: প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার মৃত্যু নেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বঙ্গবন্ধু আমাদের রোল মডেল শোক দিবসে বঙ্গভবনে বিশেষ দোয়ার আয়োজন রাষ্ট্রপতির টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যার নির্দেশ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত মানবাধিকার কমিশনকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির ৪০০তম ওয়ানডে খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তা: বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বঙ্গমাতার মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গমাতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর সারথি ছিলেন আমার মা: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গমাতা কঠিন দিনগুলোতে ছিলেন দৃঢ় ও অবিচল: রাষ্ট্রপতি

৯ মাস গণহত্যা চালান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রজব আলী: র‌্যাব

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ৩ জুলাই ২০২২  

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় কে এম আমিনুল হক ওরফে রজব আলীকে (৬৯)। কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন পলাতক। সবশেষ শনিবার (২ জুলাই) তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

র‌্যাব বলছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন রজব আলী। কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ এলাকায় নিরীহ মানুষ হত্যায় জড়িত তিনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণহত্যা, নির্যাতনসহ মনবতাবিরোধী অপরাধ করেন রজব আলী।

তিনি ভৈরবে একটি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় পাকিস্তানি ইসলামি ছাত্রসংঘের কলেজ শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভৈরবে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে গিয়ে নেন অস্ত্রের প্রশিক্ষণ। এরপর পাকিস্তান বাহিনীকে সহায়তার জন্য গঠন করেন ‘আলবদর’ বাহিনী। তখন তিনি এই বাহিনীর কিশোরগঞ্জ জেলার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রোববার (৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমিনুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়। এর এক বছর পর ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দাখিল কর হয় তদন্ত প্রতিবেদন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৮ মে ট্রাইব্যুনাল রজব আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর রজব আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

rab-2

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পলাতক থাকায় এই আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে রাজধানীর কলাবাগানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় রজব আলী পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে হবিগঞ্জ জেলার কৃষ্ণপুর, গদাইনগর ও চন্ডিপুর গ্রাম এবং কিশোরগঞ্জ জেলার সদানগর ও সাবিয়ানগর গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার ফান্দাউক এলাকায় গণহত্যা, লুটপাট, লুণ্ঠন ও নির্যাতন করেন।

১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন রজব আলী। ১৯৭২ সালে তার বিরুদ্ধে অষ্টগ্রাম থানায় দালাল আইনে তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলোতে তার সাজা হয় ৪০ বছরের। কিন্তু রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় মাত্র ১০ বছর সাজা ভোগ করে ১৯৮১ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার আমিনুল ১৯৮২ সালে জেল থেকে বের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে ও বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকবার পাকিস্তান গমন করে। ১৯৯৭ সালে তিনি চলে আসেন ঢাকায়। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

গ্রেফতার রজব আলী ‘আমি আলবদর বলছি’ ও ‘দুই পলাশী দুই মীরজাফর’ নামে দুটি বই প্রকাশ করেছিলেন। যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ আগস্টকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এরপর সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে এবং তার বিরুদ্ধে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা হয়।