• বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৯ ১৪৩১

  • || ১৬ মুহররম ১৪৪৬

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুলাই স্পেন যাবেন প্রধানমন্ত্রী আমার বিশ্বাস শিক্ষার্থীরা আদালতে ন্যায়বিচারই পাবে: প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মার জন্য তাৎপর্যময় ও শোকের দিন আশুরার মর্মবাণী ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জাও করে না : প্রধানমন্ত্রী দুঃখ লাগছে, রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও বলে তারা রাজাকার শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ ‘চীন কিছু দেয়নি, ভারতের সঙ্গে গোলামি চুক্তি’ বলা মানসিক অসুস্থতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী : প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করুন চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পিত ও দক্ষ জনসংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করতে চায় চীন: শি জিনপিং চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশ বদলের ট্রাম কার্ড হতে পারে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড!

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২৩  

‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড! কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ সেভাবেই তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এক কোটি স্মার্ট কার্ড তৈরি করতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, এক কার্ডে সামাজিক সুরক্ষার সব সুবিধা। এ নীতিতে চললে রাতারাতি পাল্টে যাবে বাংলাদেশ!

স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, অনেক রকম সহায়তা এই মুহূর্তে চলছে ভিন্নভাবে। কিন্তু একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো সমন্বয় নেই। এতে অবশ্যই ক্ষতি হচ্ছে। তবে এগুলো ধীরে ধীরে একখানে আসবে। সেই আশার পথে এটি একটি স্ট্রং পদক্ষেপ এবং সেখানেই আমাদের মূল লক্ষ্য। ওয়ান ক্লিক, ওয়ান কার্ড, ওয়ান এপ্রোচে - আমরা আমাদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা বা ভাতা পাবো। এটি আমাদেরকে আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে। এতে লাভ হবে কী? অপচয় কমবে, লিকেজ কমবে, চুরিচামারির সম্ভাবনা কমবে - সব মিলিয়ে আমরা সেদিকেই যাচ্ছি।

জাতীয় পরিচয়পত্রের আদলে করা স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডটিতে সিকিউরিটি হলোগ্রামসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে কার্ডধারীকে শনাক্ত করার প্রাথমিক তথ্য। তাছাড়া ব্যবহারকে সহজ করতে বারকোড বা কিউআর কোড সুবিধা রাখা হয়েছে।

একই পরিবারে যেন একাধিক কার্ড না যায়, সেজন্য জনপ্রতিনিধিদের পাঠানো মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বরসহ সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। তারপর পাঠানো হচ্ছে কার্ড তৈরির জন্য। কেউ তথ্য জালিয়াতি করলে আটকে যাচ্ছে প্রথম ধাপেই। এভাবে দিন শেষে যে কেন্দ্রীয় তথ্য ভান্ডার পাচ্ছে টিসিবি, সেখানে একটি কার্ড একটি পরিবারকেই প্রতিনিধিত্ব করছে বলে দাবি এই কার্ড তৈরিকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রাম সলিউশনস লিমিটেডের।
 
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাইলটিং করে একটি ফাইন টিউনিং অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড। এই পরিবারের সবার তথ্য এই কার্ডে যুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কিন্তু মাত্র সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ছবিযুক্ত এ স্মার্ট কার্ড কীভাবে বদলে দিতে পারে বাংলাদেশকে? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা সোয়া ৪ কোটিরও কম। তাদের ঘিরেই চলছে সামাজিক সুরক্ষাসহ সরকারের সব বিশেষ কর্মসূচি। প্রতি পরিবারে ৫ জন ধরে দেশের ৫ কোটি মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে দাবি সরকারের। অর্থাৎ, দেশের সবচেয়ে নিম্ন আয়ের সব মানুষই আসছেন এ কার্ডের আওতায়।

এক কোটি পরিবারের এ কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে পুল বা পুশ পদ্ধতিতে সরকারের অন্যান্য কর্মসূচির তথ্য পাঠালেই দেখা যাবে, সুবিধাটি কোন পরিবারের সদস্য পাচ্ছেন। এভাবে সহজেই জানা যাবে নিম্ন আয়ের একটি পরিবারে কতগুলো সুবিধা যাচ্ছে। যা দেখে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, ওই পরিবারের সহায়তা কমাতে হবে, নাকি আরও দিতে হবে। এভাবেই স্মার্ট কার্ডের ডিজাইন করা হয়েছে বলে জানালেন টিসিবি'র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান।

তিনি বলেন, সরকারের দেয়া সব ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আমরা একটি কার্ডের আওতায় আনতে চাই। কাজেই আমরা আমাদের টিসিবির কার্ডটিকে এমনভাবে করেছি যে, এক কোটি নিম্ন আয়ের মানুষ আমরা পেলে, সেই এক কোটি মানুষকে যদি কোনো সংস্থা তাদের তালিকায় আনতে চায়, তারা আমাদের এই ডেটা ব্যবহার করতে পারবে। তাছাড়া তারা একই কার্ডের মাধ্যমে তাদের পণ্য বিতরণ করতে পারবে বা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। আমরা সেই ব্যবস্থা আমাদের কার্ডের মধ্যে রেখেছি।

নিম্ন আয়ের মানুষকে ঘিরে চালানো সব কর্মসূচিকে একটি কার্ডের মাধ্যমে পরিচালিত করতে পারলে সত্যিই বদলে যাবে বাংলাদেশ - এমন বিশ্লেষণ অর্থনীতিবিদদেরও।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, আমি মনে করি, এটি একটি গেম চেঞ্জার হতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে, আমাদের কাছে যদি সব সময় একটি ডেটাবেইজ থাকে এবং আমরা স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে যদি আমাদের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি, সেটি খাদ্য হোক বা খাদ্য বহির্ভূত হোক, তাহলে সেই ক্ষেত্রে এখান থেকে আসলে কম অর্থ ব্যয় করে অনেক বেশি উপকারভোগীকে সহায়তা দেয়া সম্ভব। কারণ আমরা চিহ্নিত করতে পারছি যে, কাকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং কী পরিমাণে দেয়া হচ্ছে। আমরা যত অপচয় কমাতে পারবো, আমরা তত বেশি মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে পারব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, চলতি বছরেই ৭৫ লাখ আর আগামী বছরের শুরুতে আরও ২৫ লাখ, মোট এক কোটি পরিবারে এ কার্ড পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছে টিসিবি।