• বৃহস্পতিবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৮

  • || ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
আইন করলে হবে না, মানসিকতাও বদলাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর বেগম রোকেয়া ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন আধুনিক নারী রোকেয়া শুধু নারী শিক্ষার অগ্রদূত না, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী খালেদা জিয়াকে যথেষ্ট উদারতা দেখিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী ফোর্বসের ১০০ ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা নেপাল ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে উপকৃত হবে ঢাকা-দিল্লী মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেলসহ ৮ স্থাপনার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার- প্রধানমন্ত্রীর মেঘনা নামে কুমিল্লা ও পদ্মা নামে ফরিদপুর বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে ‘ঢাকা শান্তি ঘোষণা’ গৃহীত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে সম্পদ ব্যবহার করুন: প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর যুবকদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর দেশবাসীকে শপথ করানোর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা উপকূলীয় এলাকার ৫৩ শতাংশ জমি সরাসরি লবণাক্ততায় আক্রান্ত

র‌্যাব-পুলিশের ড্রেসে টাকাওয়ালাদের টার্গেট, হাতকড়া পরিয়ে লুট

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২১  

নিজেদের কখনো র‌্যাব আবার কখনো ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মাইক্রোবাসে তুলে নিতো একটি চক্র। ওই চক্রের মূল টার্গেট ছিলো ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়া অথবা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তিরা। ওই চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মানুষকে তুলে নিয়ে ছিনতাই ঘটনা প্রতিরোধে বুধবার (২৭ অক্টোবর) ডিবি উত্তরের যুগ্ম-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এর আগে, ২৬ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মতিঝিল এলাকা থেকে ওই নয় ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে ডিবির গুলশান বিভাগ। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমান।

গ্রেফতাররা হলেন- আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইমদাদুল শরীফ, খোকন, মাসুদুর রহমান তুহিন, মামুন শিকদার, কমল হোসেন, ওয়াহিদুল ইসলাম, ফারুক বেপারী ও মতিউর রহমান। এই চক্রটি ডিবি ও র‌্যাবের পরিচয় মানুষকে তুলে নিয়ে ছিনতাই করে তাদের নির্জন জায়গায় ফেলে রাখতো।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি, একটি পিস্তল, এক জোড়া হাতকড়া, ট্রাভেল ব্যাগ, দুইটি জ্যাকেট, চারটি নতুন গামছা, একটি প্রাইভেটকার, একটি মাইক্রোবাস ও পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হারুন অর রশীদ বলেন, হাতে ওয়ারলেস সেট, গায়ে র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশের জ্যাকেট পরা দেখলেই তাদের পুলিশ বা র‌্যাব মনে করার কোন কারণ নেই। তাদের যাচাই করুন। তারা সত্যিকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিনা তা নিশ্চিত হয়ে কথা বলুন। প্রয়োজনে মানুষ জড়ো করুন।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে নিকটস্থ থানা পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিন।

হারুন অর রশীদ বলেন, ঢাকা মহানগরী এবং আশেপাশের এলাকায় ভুয়া র‌্যাব ও ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়া অথবা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তিদেরকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয় ওই চক্রটি। তুলে নেওয়া ব্যক্তিকে কখনো সাভার-আশুলিয়া, কখনো বেড়িবাঁধ, কখনো নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এরপর তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও তাদের ডেবিট, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নিতো।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানান, তারা ব্যাংকের কাছে দাঁড়িয়ে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তিদের টার্গেট করেন। টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছার পর তাদের সঙ্গে থাকা ডিবির জ্যাকেট পরে ওই ব্যক্তির গতিরোধ করেন। এসময় ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজেদেরকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে কোনো একটা অপরাধ করার অজুহাত দেখিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তাদের নিজেদের গাড়িতে তুলে নেন।

ডিবি উত্তরের যুগ্ম-কমিশনার আরও জানান, এরপর কিছুদূর গাড়ি চালানোর পর তাদের কাছ থাকা টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী কেড়ে নিতো ওই চক্রটি। এরপর তাদের কাছে থাকা গামছা দিয়ে ভুক্তভোগীর চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে দিতো।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদক আইনে মতিঝিল থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। চক্রটির বেশিরভাগ সদস্য ঢাকার বাইরের। তারা ঢাকার বাইরে থেকে এসে কাজ করে আবার চলে যান। তারা কাঁচপুর থেকে মেঘনা পর্যন্ত সড়কটি ব্যবহার করেন বলেও জানান তিনি।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, ভুক্তোভোগীরা মামলা করতে চান না, তারা মনে করেন বেঁচে গেছি, শুকরিয়া আদায় করেন। কিন্তু পুলিশকে জানান না। যে নয়জনকে গ্রেফতার করেছি, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা, নারী নির্যাতন মামলা ও ধর্ষণের মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় হারুন অর রশীদ বলেন, এ ধরনের ছিনতাইয়ের কবলে পড়লে থানায় জানান। থানায় না গেলে আমাদের কাছে আসুন। আমরা আপনাদের অভিযোগ নিবো। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রত্যেককে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে আমরা অপরাধ চক্রকে ধরতে পারবো।