• বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় কর ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকায় টিকিট কেটে চোখ পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল হস্তান্তর ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি জানানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশ, পরিবহন ধর্মঘট না ডাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী প্লিজ যুদ্ধ থামান, সংঘাত থামাতে সংলাপ করুন: শেখ হাসিনা হানিফের সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করবে মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা সংঘাত-দুর্যোগে নারীদের দুর্দশা বহুগুণ বাড়ে: প্রধানমন্ত্রী সচিবদের যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী জিয়া-খালেদা-তারেক খুনি: প্রধানমন্ত্রী জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল হবে: প্রধানমন্ত্রী সূচকের ওঠানামায় পুঁজিবাজারে চলছে লেনদেন দুপুরে সচিবদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডা. মিলনের আত্মত্যাগ নতুন গতি সঞ্চার করে ডা. মিলন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: রাষ্ট্রপতি মিছিল-মিটিংয়ে আপত্তি নেই, মানুষের ওপর হামলায় সহ্য করবো না ‘যারা গ্রেনেড দিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা?

জিয়াউর রহমানের শাসনকালে ১৩০০ সেনা হত্যার নথি কোথায়?

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২২  

১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর। ঢাকায় সামরিক বাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের নির্দেশে বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। গবেষকরা বলছেন, কথিত সেই বিচারে সেনা ও বিমানবাহিনীর ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি সদস্যকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

গুম-খুনের ৪৫ বছর পরও কবরের সন্ধানও পাননি স্বজনরা। ছোট-বড় ২১টি অভ্যুত্থানের দায়ে সেনাশাসক জিয়ার কলমের খোঁচায় শত শত গুম ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

খোদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য মওদুদ আহমদ তার‘ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড দ্য চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট’ বইয়ে বলেন, জিয়া যাকে সন্দেহ করেছেন তাকেই কঠোর শাস্তি দিয়েছেন।

অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার লেখা ‘আ লিগেসি অব ব্লাড’ বইয়ে লেখেন, ১৯৭৭ সালে মাত্র দু-মাসের মধ্যে ১ হাজার ১৪৩ জন সেনাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে হত্যা করেন জেনারেল জিয়া। তা ছাড়া শত শত সেনাকে ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

জিয়ার সহযোগীদের একজন অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে বলেন, জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক প্রশাসকের দ্বৈত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজ হাতে এসব হতভাগ্য সেনার দণ্ডাদেশে অনুমোদন দিতেন।

লেখক ও গবেষক জায়েদুল আহসান পিন্ট বলেন, এক দিনে গ্রেফতার, পরদিন বিচার, তার পরদিন কার্যকর করে দেয়া হয়! প্রতিটি ধাপেই অবিচার হয়েছে। ১৯৭৭ থেকে ২০২২ সাল। এ পর্যন্ত জানা যায়নি মরদেহগুলো কোথায়।

সে সময় দ্রুত ফাঁসি দিতে গিয়ে ভুলে একই নামের অন্যকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়া ছাড়াও লাশ গুম করার রেকর্ডও ইতিহাস বিশ্লেষক ও গবেষকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কোথায় দাফন করা হয়েছে, তা-ও জানানো হতো না স্বজনদের। এ ছাড়া হিন্দু সেনার মরদেহ সৎকারের সুযোগও দেয়া হয়নি তখন। কবর খোদকরা যেন বিষয়টি প্রকাশ না করেন, সে জন্য তাদের হুমকি-ধমকিও দেয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দিয়ে কুলাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা কারাগারেও ৭২ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয় বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে।

সামরিক অভ্যুত্থানের অভিযোগে বিচারের অধিকাংশ দলিল-দস্তাবেজ জিয়া ও আরেক সামরিক শাসক এরশাদের আমলেই নষ্ট বা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তাদের ধারণা, এখনও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কারো কারো কাছে সেসব নথি থাকতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব একটি তথ্যানুসন্ধানী কমিশন গঠন করে সে সময়ের হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার হত্যা, বিনা বিচারে হত্যা এবং বিচারের নামে প্রহসনের ট্রাইব্যুনালে হত্যা বা ফাঁসি তথ্য সংগ্রহ করার তাগিদ দিয়েছেন ইতিহাস বিশ্লেষকরা।