• শুক্রবার   ১৯ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ২০ মুহররম ১৪৪৪

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আ. লীগের নেতারা কী করেছিলেন: প্রধানমন্ত্রী সুশীল বাবু মইনুল খুনিদের নিয়ে দল গঠন করে: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতরা আজ মানবাধিকারের কথা বলে: প্রধানমন্ত্রী ভারত পারলে আমরাও রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবো: প্রধানমন্ত্রী ‘ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছি’ খবরদার আন্দোলনকারীদের ডিস্টার্ব করবেন না: প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার মৃত্যু নেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বঙ্গবন্ধু আমাদের রোল মডেল শোক দিবসে বঙ্গভবনে বিশেষ দোয়ার আয়োজন রাষ্ট্রপতির টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যার নির্দেশ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত মানবাধিকার কমিশনকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির ৪০০তম ওয়ানডে খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তা: বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বঙ্গমাতার মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গমাতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর সারথি ছিলেন আমার মা: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গমাতা কঠিন দিনগুলোতে ছিলেন দৃঢ় ও অবিচল: রাষ্ট্রপতি

রেলে কক্সবাজার ভ্রমণ, প্রকল্পে অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২২  

সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প। কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা সেতু, মেরিন ড্রাইভ, ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পের কাজ যখন শেষের দিকে, দেশের মানুষের চোখ তখন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের দিকে।

২০২১ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা পিছিয়ে ২০২২ সালে শেষ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু দেশের মানুষের বহুদিনের সেই রেলে কক্সবাজার ভ্রমণের স্বপ্ন কি নতুন বছরে পূরণ হবে, সেই প্রশ্ন সবার মনে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, রেললাইন নির্মাণ হলে ট্রেনে পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজারে প্রবেশ করতে পারবেন পর্যটকেরা। চট্টগ্রাম থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে। এজন্য বিশেষ কোচ কেনা হবে। পর্যটন নগরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ‘ঝিনুকাকৃতির’ রেলস্টেশন। এটি দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশন হতে যাচ্ছে।

রেলপথটিতে ৮টি স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথমে কক্সবাজার ও পরের স্টেশনটি রামু। এরপর ইসলামাবাদ, ডুলাহাজারা, চকরিয়া, হারবাং, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণকাজ চলছে।

প্রকল্পের আওতায় ১২৮ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া নির্মিত হচ্ছে চারটি বড় সেতুসহ ২৫টি সেতু। বড় সেতুগুলো হচ্ছে মাতামুহুরী নদী, মাতামুহুরী শাখা নদী, শঙ্খ ও বাঁকখালী নদীর ওপর।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে প্রথমে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পৃথক দুইভাগে কাজটি করছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৬৬ শতাংশ।  

রেল কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা আর অধিগ্রহণ ঝামেলার কারণে কিছুটা কাজের বিঘ্ন ঘটে। এখন কাজ পুরোদমে চলছে। ২০২৩ সালের জুনে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে নতুন এই রেলপথ।

প্রকল্প নেওয়ার সময় ২০১৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তা বাড়িয়ে করা হয় ২০১৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় ২০১৭ সালে। তখন প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা ঠিক করা হয় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এ বছর প্রকল্পের কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম তুহিন বলেন, রেল চড়ে কক্সবাজার ভ্রমণ, এটি কল্পনার অতীত ছিল। এখন রেলপথ, স্টেশন নির্মাণ দেখে অবাক হচ্ছি। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সবসময় যানজটে পড়তে হতো। বিরক্ত হতাম। ট্রেন চালু হলে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবো।

সরেজমিন দেখা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাহ থেকে রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার রেললাইন বসানো হয়েছে। কক্সবাজার-চকরিয়া অংশের ৫০ কিলোমিটার এলাকায় মাটির কাজের পাশাপাশি এগিয়ে চলছে রেললাইন বসানোর কাজ। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে চকরিয়া পর্যন্ত আরও প্রায় ৫০ কিলোমিটার অংশে ১৯টি সেতুর সব কটি তৈরি হয়ে গেছে। স্টেশন ভবন নির্মাণকাজ চলছে। বর্ষায় যে স্টেশনগুলোর কাজ করা যায়নি, সেগুলোর কাজও চলমান। তার মধ্যে ছয়টি স্টেশনের ছাদ তৈরি হয়ে গেছে। বর্ষার পানির জন্য রেলপথ বসাতে সেখানে সমস্যা হয়েছে, সেখানেও মাটি ভরাট করে রেলপথ বসানোর কাজ শেষ।  

প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার। ইতিমধ্যে প্রকল্পটির প্রায় ৬৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্ষায় কাজ করতে সমস্যা হয়েছে। এখন পুরোদমে কাজ চলছে। করোনা মহামারি, জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে কাজ কিছুটা গতি হারায়। তবে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। আশা করছি, ২০২২ সালের জুনের (প্রকল্প মেয়াদ) মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো।