• শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পিত ও দক্ষ জনসংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করতে চায় চীন: শি জিনপিং চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী চীন সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-বেইজিং ৭ ঘোষণাপত্র, ২১ চুক্তি সই চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময় তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনা বিপ্লবীদের প্রতি শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা চীন-বাংলাদেশ হাত মেলালে বিশাল কিছু অর্জন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই সময়: চীনা ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী বেইজিং পৌঁছেছেন, শি জিংপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক আজ দ্বিপক্ষীয় সফরে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাচ্ছেন আজ সর্বজনীন পেনশনে যুক্ত হতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান শেখ হাসিনার পড়াশোনা নষ্ট করে কোটাবিরোধী আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই পিজিআরকে ‘চেইন অব কমান্ডে’র প্রতি আস্থাশীল থেকে অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিতে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে টেকসই কৃষি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে এমডি পদের জন্য এত লালায়িত কেন, কী মধু আছে: প্রধানমন্ত্রী

‘কথা বলছে’ গাছ, ভেসে আসছে নারী কণ্ঠের আর্তনাদ!

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৪  

গাছ মানুষের সঙ্গে কথা বলছে, দিচ্ছে প্রশ্নের উত্তর। কান পাতলে গাছের ভেতর থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ করা নারী কণ্ঠ, দাবি স্থানীয়দের। এ খবরে দলে দলে মানুষ আসছেন, আর কান পাতছেন গাছের কাণ্ডে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর ইউনিয়নের গর্জিনা গ্রামে ঘটেছে এমন ঘটনা। ‘কথা বলা’ গাছ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে শতাধিক মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি, গর্জিনা গ্রামে সৌদি প্রবাসী সবুর মিয়ার একটি গাছের বাগান আছে। গত ১৪ জুন ওই বাগানের একটি লম্বু গাছ কাটতে যায় জুয়েল মোল্লার ছেলে নিরবসহ (১০) কয়েকজন শিশু। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে গাছটি নাকি কথা বলে ওঠে এবং কেঁদে ওঠে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে গাছের কথা বলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার রাঘদি ইউনিয়নের গর্জিনা গ্রামে। এরপর থেকে এ গাছ দেখার আশায় সেখানে ভিড় বাড়ছে অসংখ্য মানুষ।

এ সময় শিশুরা ভয় পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানার পর গাছটি দেখতে যায়। তারা গাছের গায়ে কান পেতে আওয়াজ শুনতে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। গাছের গায়ে গোবর লেপার কারণে এক নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় রাঘদি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সাদ্দাম হোসেন, একই গ্রামের লিয়াকত হোসেন, টেকেরহাটের সোহেল মাতুব্বর, গর্জিনা গ্রামের ফরিদ মোল্লাসহ অনেকেই গাছের গায়ে কান পেতে কথা শোনার চেষ্টা করেছেন। এই তালিকায় রয়েছে শিশুরাও। যদিও অনেক দর্শনার্থী গাছের কথা শুনতে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

গাছে কান পাতা কয়েকজন জানান, কানপাতার পর ফিসফিস করে আওয়াজ হচ্ছে। এমনকি ‘সালাম’ দিলে ‘হু’ শব্দ করছে। কিন্তু কোনো কথা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু আশপাশের গাছে কান পাতলেও সেসব গাছে কোনো শব্দ হচ্ছে না।

স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর দাবি, গাছে কথা বলার খবর পেয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে তারা এখানে এসেছেন। কান পাতার পর একটা মেয়ের কণ্ঠ শুনতে পান তারা। যেন মেয়েটি আর্তনাদ করছে, এমন শব্দ শুনেছেন বলে ওই শিক্ষার্থী দাবি করেন।

কেউ কেউ বলছেন, শব্দ শুনে মনে হচ্ছে ক্লান্ত শরীরের নিয়ে কোনো রোগী গলা দিয়ে যেমন শব্দ করে, সেরকম শব্দ হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঘদী ইউপি চেয়ারম্যান শাহিদুর রহমান টুটুল বলেন, ‘ওই গাছের কথা শুনতে শত শত লোক ভিড় জমাচ্ছে। আমি মনে করি যারা গাছের কথা শুনেছে তাদের কথা বিশ্বাস করা যায় না। কিছু লোক অতি উৎসাহী হয়ে মানুষকে আলৌকিক ঘটনা বিশ্বাস করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’

তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা এটিকে নিছক কুসংস্কার বলছেন। আর মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি পুরোটাই মনস্তাত্ত্বিক, বাস্তব নয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহমিনা বেগম বলেন, ‘গাছ আসলে কথা বলতে পারে না। বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনো ভিত্তি নেই। গাছের শরীরে কান পাতলে শব্দ শোনা যেতে পারে। বাতাসে যখন একটা বড় গাছ নড়াচড়া করে, তখন কম্পন হতে পারে। তখন শব্দের সৃষ্টি হতে পারে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুসরাত শারমিন বলেন, ‘এমনটা হতে পারে- মানুষগুলো প্রথম যখন গাছে কান পেতেছিল, তখন আশপাশের কোনো শব্দকে তার অবচেতন গাছের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেছে। এরপর সে ভ্রান্ত ধারণা বিশ্বাস করে আরও যারা কান পাতছে তাদেরও কানে এক ধরনের ভ্রম বা বিভ্রাট তৈরি হচ্ছে।’

গাছটির নাম আফ্রিকান মেহগনি। স্থানীয়ভাবে এটিকে লম্বু গাছ বলেও ডাকা হয়।