• শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৬ ১৪২৯

  • || ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
পদ্মা সেতুতে নাশকতার চেষ্টা: আটক ১ সঞ্চয় বাড়ানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা হচ্ছে নতুন মুদ্রানীতি সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস হচ্ছে আজ নির্মল রঞ্জন গুহের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সায়মা ওয়াজেদের মমত্ববোধ রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে সেতু-উড়াল সড়ক নির্মাণের নির্দেশ ব্যবসা বৃদ্ধিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর সমন্বয়ে নিশ্চিত হবে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা চাকরির একমাত্র বিকল্প শিক্ষিত বেকারদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা পদ্মা সেতুতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে স্বপ্নজয়ের পর অপার সম্ভাবনার হাতছানি পদ্মা সেতু: প্রধানমন্ত্রীকে এশিয়ার পাঁচ দেশের অভিনন্দন ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশে কাজ করছে সরকার পদ্মা সেতুর সফলতায় প্রধানমন্ত্রীকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূতের অভিনন্দন নতুন প্রজন্মকে প্রস্তত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলবো: প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রচণ্ড গরমে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লে কী করবেন, কী করবেন না

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২২  

গরমে পুড়ছে বাংলা। অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকেই। এই সময় সুস্থ থাকতে দুপুরের চড়া রোদ এড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সাবধান হয়েও যদি গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তা হলে কী করা উচিত?  

গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গরমে শারীরিক সমস্যাগুলোর মূল কারণ শরীরে পানির অভাব। তাই চিকিৎসকরা বলছেন, তেষ্টা না পেলেও পানি খেতে হবে।

শরীর ঠান্ডা করতে প্রয়োজনে আইস ওয়াটার বা ঠান্ডা জলে বার বার গা ধোওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই গরমে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবল গরমে শরীরের তাপমাত্রাও বেড়ে যায়। ঠান্ডা পানিতে গোসল সেই সমস্যা কাটাবে।

গত দু’এক দিন ধরেই গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর আসছে। রাস্তায় বেরিয়ে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। চিকিৎসকদের কথায়, এই ধরনের অসুস্থতার কারণ হিট স্ট্রোক হতে পারে। যার মূল কারণ, শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি।

পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা বা বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস। বাইরের তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে বা কমে গেলে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বাড়লেই হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা দেখা যায়। এই হিট স্ট্রোকের উপসর্গ আগে থেকে বুঝতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া আর কী কী সমস্যা হতে পারে? হলে কী করবেন, সেই পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমেই সানবার্ন বা প্রবল রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন চিকিৎসকরা। এক্ষেত্রে সাধারণত ত্বক লাল হয়ে যায়। সঙ্গে ত্বকে ফুসকুড়িও দেখা যেতে পার।

‘সানবার্ন’ হলে ত্বকের আক্রান্ত জায়গাটিতে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কিছু না লাগানোই ভালো। ফুসকুড়ি হলে তা ফাটানোর কোনো চেষ্টা যেন করা না হয়। বদলে চড়া রোদে না থাকা, ঠান্ডা জলে ভেজানো কাপড় ত্বকের উপর রাখা, তারপরও না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গরমে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। অনেকটা অংশ জুড়ে র‍্যাশ বেরতে পারে। একে ‘হিট র‍্যাশ’ বলা হয়। ‘হিট র‍্যাশ’ এড়াতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। রোদ এড়িয়ে ছায়া বা ঠান্ডা জায়গায় থাকলে এই সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।

শরীরে জলের ঘাটতি হলে এবং খনিজ পদার্থ বেরিয়ে গেলে পেশিতে টান ধরতে পারে। শরীর জলশূন্য হয়ে গেলে পেটে ব্যথা করতে পারে। একে ‘হিট ক্র্যাম্পস’ হলা হয়। এই সমস্যা এড়াতে জল বেশি করে খেতে হবে, প্রয়োজনে লবণ-চিনি জল বা ওআরএস হাতের কাছে রাখতে হবে, প্রয়োজন বুঝলে খেকে হবে, ছায়া বা ঠান্ডা জায়গায় থাকতে হবে।

অতিরিক্ত ঘাম হলে, নাড়ির গতি দুর্বল হলে এবং এই সব কিছুর সঙ্গে গা গোলানো ভাব বা বমি হওয়া, মাথা ব্যথা এবং দুর্বলতা থাকলে ধরে নিতে হবে ‘হিট এগজরশন’-এ আক্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের অসুস্থতা বোধ করলে পোশাক ঢিলে করে দিতে হবে। ঘাড়ে, গলায় ভেজা কাপড় দিয়ে মোছার পাশাপাশি বেশি করে জল খাওয়া, রোদে থাকলে দ্রুত ছায়া আছে এমন জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘হিট স্ট্রোক’-এ শরীরে তাপমাত্রার ভারসাম্য থাকে না। তাই ঘাম হয় না। কিন্তু হিট স্ট্রোক হলে তা থেকে মস্তিষ্ক, কিডনি, হৃদযন্ত্রে প্রভাব পড়তে পারে। রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। ভুল বকতে পারেন। ঘাম না হওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। এর পাশাপাশি মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরার মতো উপসর্গও দেখা যেতে পারে। এমন সমস্যা হলে দ্রুত রোগীকে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে রোগীকে ঠান্ডা জলে গোসল বা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছিয়ে দেওয়া।

এছাড়া গরম থেকে বাঁচতে যখন তখন যেকোনো ঠান্ডা পানীয় বা রাস্তায় বিক্রি হওয়া কাটা ফল খাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের কথায়, এই ধরনের পানীয় বা কাটা ফলে জীবাণু থাকে। তা থেকে ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।