• রোববার   ২২ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৯

  • || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
রূপপুর মেটাবে বিদ্যুতের চাহিদা, দেবে লাভও দ্রব্যমূল্য নিয়ে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ দফা প্রস্তাব অবিলম্বে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করার আহ্বান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশবান্ধব: প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে পদ্মায় ফেলতে আর ইউনূসকে চুবিয়ে তুলতে বললেন শেখ হাসিনা কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের রিফুয়েলিং পয়েন্ট কক্সবাজারে যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে কউক’র নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি আওয়ামী লীগ সরকার আছে বলেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে- প্রধানমন্ত্রী ওপেনিংয়ে চতুর্থ সেরা জুটি গড়ে ফিরলেন জয়, তামিমের সেঞ্চুরি নিত্যপণ্যের দাম কেন চড়া, জানালেন প্রধানমন্ত্রী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: শেখ হাসিনা দেশের মানুষের শেষ ভরসাস্থল শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির নিরাপদ আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ইতিহাসে মাইলফলক: রাষ্ট্রপতি চার দশকেরও বেশি সময় শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে আ.লীগ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য সাশ্রয় করুন: প্রধানমন্ত্রী সবাই স্বাধীনভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী টাকা অপচয় করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

মনোনয়ন পাবেন না উস্কানিদাতা এমপি-মন্ত্রীরা

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২২  

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উস্কানি দেওয়া মন্ত্রী ও এমপিরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না। দলের এই সিদ্ধান্তের কথা আবারো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সেই তালিকা তৈরি করার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য জানান, আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের পর বিদ্রোহী প্রার্থীদের উস্কানিদাতা নেতাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। আটজন সাংগঠনিক সম্পাদক এই তালিকা প্রস্তুত করবেন।

শনিবার (১ জানুয়ারি) রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এ সময় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নানাভাবে উস্কানি দেওয়া নেতাদের নেতিবাচক ভূমিকার প্রসঙ্গ উঠে আসে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া পাঁচজন নীতিনির্ধারক নেতা দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের উস্কানিদাতা নেতাদের ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উস্কানিদাতা এমপিরা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না।

প্রধানমন্ত্রী উস্কানি দেওয়া এমপিদের তালিকা তৈরি করার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন। এ ক্ষেত্রে দলের আটজন সাংগঠনিক সম্পাদকের সহায়তা নেওয়ার তাগিদও দিয়েছেন তিনি।

এ সময় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের পর উস্কানিদাতা নেতাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, দল থেকে গণবহিস্কার করেও অনেক বিদ্রোহী প্রার্থীকে কোনোভাবেই সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে নানা জায়গায় বিব্রতকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল কিংবা জটিলতা থাকলেও তৃণমূলে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ রীতিমতো শিহরণ জাগানোর মতো। তাছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাই দল মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে দলীয় প্রার্থীরা নাকাল হয়েছেন। এ সবের পেছনে রয়েছে কয়েকজন এমপির উস্কানি।

এ নিয়ে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আলোচনাও হয়েছে। তবে অভিযুক্ত এমপিদের কয়েকজন বলেছেন, ইউপি নির্বাচনে শরীয়তপুর ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উন্মুক্ত ছিলো। এরপর বেশ কয়েকজন এমপি তাদের নির্বাচনী এলাকায়ও প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। আবার পছন্দের নেতারা দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় বিপাকে পড়েন অনেক এমপি। একপর্যায়ে তারা বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিতে বাধ্য হয়েছেন।

গত ১৯ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আশকারা দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। তখন ফল বিপর্যয়ের জন্য পরোক্ষভাবে আশকারা দেওয়া এমপিদের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে।

বৈঠকে বলা হয়েছে, এমপিদের পাশাপাশি কয়েকটি জেলার শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ বিদ্র্রোহী প্রার্থীদের আশকারা দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের (যিনি দলের সভাপতিমণ্ডলীরও সদস্য) বিরুদ্ধেও বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই মন্ত্রী ময়মনসিংহ বিভাগের একটি আসনের এমপি।

বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা মন্ত্রিসভার অপর তিন সদস্যের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরোধিতা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই অভিযোগ রয়েছে মন্ত্রিসভার আরো কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও।

দলের সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেন্দ্র থেকে দফায় দফায় নির্দেশ দেওয়ার পরও কয়েকটি জেলার নেতারা রহস্যজনক কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বেলায় চুপচাপ থেকেছেন। এ ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ আলোচনার পুরোভাগে চলে এসেছে।

এদিকে ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ফল বিপর্যয় এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের আশকারা দেওয়া এমপিদের ভূমিকা নিয়ে নেতাকর্মীদেরও মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। দলের কয়েকজন এমপির বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের স্পষ্ট অভিযোগ, ওই এমপিরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রশ্রয় কিংবা কেউ কেউ পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য তাদের ব্যাপারে একেবারেই নির্বিকার থেকেছেন।