• বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৪ ১৪৩০

  • || ১৬ শা'বান ১৪৪৫

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
পুলিশ জনগণের বন্ধু, সে কথা মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, পুলিশকেও সেভাবে আধুনিক হতে হবে পুলিশ সপ্তাহ শুরু, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে পুলিশ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হয়েছে পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করলে ভোট পাবেন: জনপ্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজের ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছিলাম কেউ যেন ভুয়া ক্লিনিক-চিকিৎসকের দ্বারা প্রতারিত না হন: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার বিভাগে বাজেট বরাদ্দ ৬ গুণ বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকারকে মাটি-মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়তে হবে শবে বরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান সমাজের অসহায়, দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে বিচারকদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধকল্পে খেয়াল রাখার আহ্বান মিউনিখ সফরে বাংলাদেশের অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে পবিত্র রমজানে নিত্যপণ্যের সংকট হবে না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের আহ্বান সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: শেখ হাসিনা

দেশের শীর্ষ পত্রিকার প্রতিবেদন ॥ বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনকাল

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২৩  

২০০৮ মহাজোটের বিস্ময়কর বিজয়ে ওবামার মতোই ইতিহাস গড়লেন শেখ হাসিনা। দিনবদলের সনদ নিয়ে নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম ঘুরে দাঁড়াল। ওয়াশিংটন প্রবাসী বাংলাদেশী নতুন প্রজন্মের ভাষায় বাংলাদেশের মানুষও অর্থনৈতিক মুক্তি চায়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। দেশ পরিচালনার জন্য ‘জামায়াত সমর্থিত’ চারদলীয় জোট যে মহাপরিকল্পনা করে অঙ্ক কষে রেখেছিল। জামায়াত নেতা মুজাহিদীর ভাষায় আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না। নতুন প্রজন্ম নির্বাচনে তার যোগফল পাল্টিয়ে দিল। তৎকালীন জামায়াত জোট সরকার তা মানতে রাজি নন। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তারা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখল করেছে। বিএনপির নেতারা ঘোষণা করল তারা পুনরায় ক্ষমতায় গেলে কুশীলবদের (সামরিক বাহিনীর লোকদের) বিচার করবে জনতার আদালতে। অতএব সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারাও সাবধান। (যুগান্তর ১২ জানুয়ারি ২০১০)। আসলে ১/১১ আগে ২০০৭ সালে কি ঘটেছিল? কেন ১/১১ প্রয়োজন ছিল? বাংলাদেশের জনগণ তথা সারা বিশ্ব ভাল করেই জানে। ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজ ও ছবিই তা প্রমাণ করে। চারদলীয় জোট ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য হাওয়া ভবনের মাধ্যমে কি সব ষড়যন্ত্র করেছিল তাও মানুষ জানে।

২০০৮ মহাজোটের নির্বাচনে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনা তৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দিলেন ‘কোন বিজয় উল্লাস করা যাবে না।’ এমন বিজয়ের পরও মহাজোটের নেতা-কর্মীরা জননেত্রীর নির্দেশ মেনে নেয়। বিদেশেও তার এই নির্দেশ প্রশংসিত হয়। বর্তমান বিরোধী দল ঢাক্ ঢোল পিটিয়ে যতই অপ্রচার করুক না কেন বিরোধী দলের ওপর সরকারী দল নিপীড়ন-জুলুম অত্যাচার করছে। বর্তমানে মিডিয়া এতই তৎপর ও শক্তিশালী তারা নিরপেক্ষভাবে সত্যকে প্রকাশ করে চলছে।

২০০৮ নির্বাচনের পর প্রবাসী বাংলাদেশীরা ভেবেছিল দেশনেত্রী বলে পরিচিত খালেদা জিয়া হয়তো সকাল ৭টায় নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে জাতির উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জন ম্যাককেইনের মতই ভাষণ দেবেন। ফুলের শুভেচ্ছা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাবেন। খালেদা জিয়াও নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। ফল হলো তার উল্টো। খালেদা জিয়া নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশনারকে দোষারোপ করলেন। প্রবাসে বাসরত বাঙালীরা তার এই সংবাদ সম্মেলনে নিরাশ হলেন। সাধারণ মানুষের ম্যান্ডেটকে বিএনপি অসম্মানিত করল। খালেদা জিয়া সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ঢাকার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নজরুল ইসলামের পরিবারকে দেখতে গিয়ে বললেন- হত্যা সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে দিন বদলের যাত্রা শুরু হলো আওয়ামী লীগের। দেশব্যাপী বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর তাণ্ডব চালানো হচ্ছে একের পর এক জমি দখল, লুটতরাজ সন্ত্রাস করে মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। (ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ৭ জানুয়ারি ২০০০) অপরদিকে যুগান্তরের সংবাদে জানা যায়, ব্যবসায়ী সমিতির বিরোধের কারণেই খুন হয়েছে নজরুল (যুগান্তর ৭ জানুয়ারি ২০০০)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিডিয়ার সাংবাদিকরা উক্ত ঘটনার বিষয় জিজ্ঞেস করলে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিএনপি এই হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে ফায়দা লুটতে চাইছে। আমরা কি ভুলে গেছি ২০০১ সালের কথা! সে নির্বাচনের পর পর চারদলীয় জোটের নেতাকর্মীরা কি রকম তাণ্ডব চালিয়েছিল আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর। অনেকের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের ঘরছাড়া করেছে, ধর্ষণ হত্যা ছিল তাদের সন্ত্রাসী কর্মীদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কই তখন তো খালেদা জিয়া এক বারও নেতা-কর্মীদের বিরত থাকার জন্য মুখে কোন উচ্চবাচ্য করেননি। অনেকে স্ত্রী পুত্রকে বাড়িতে রেখে প্রাণনাশের ভয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে।

আসলেই ২০০১ সালের নির্বাচনের পর কি ঘটেছিল? যদি খালেদা-নিজামীর শাসন আমলের দিকে ফিরে তাকাই তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের থেকে দেখা যায়। চার দল সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বঙ্গবন্ধুর ছবি সংরক্ষণ আইন বাতিল করার জন্য প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নেয় (আমাদের কাগজ) ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে না পারলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হারাধনকে ঘরছাড়া করে। কয়েকজন যুবক তার পালিত কন্যাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেও চাঁদা দাবি করে। সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে জানতে পারে এরা সবাই চারদলীয় জোটের কর্মী। খবর নিয়ে তারা আরও জানতে পারে এমন হারাধনের সংখ্যা অনেক (১৩ ডিসেম্বর ২০০১ দৈনিক জনকণ্ঠ)।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় সবার পরিচিত মানবাধিকার কর্মী বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরকে ২২ নভেম্বর ২০০১ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে সাবেক জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। তার অপরাধ জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের ক্যাডারদের নির্যাতনের কাহিনী ফাঁস করে দিয়েছিলেন। শাহরিয়ার কবিরকে ফাঁসানোর জন্য জামায়াত-জোট সরকার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে। কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করে ১৬ দিন পর। সিআইডিকে মামলা প্রমাণের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু সিআইডির কর্মকর্তা জনকণ্ঠের সাংবাদিককে বলেন, এই বিভাগটিকে দীর্ঘ দিন ধরেই বদকর্মের দায়িত্ব কুড়ানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছে। তারপরও এর শেষ কোথায়? দেশের আর এক বরণ্য ব্যক্তি খ্যাতিনামা কলামিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনকে রাতের আঁধারে জামায়াত-জোট সরকারের নির্দেশে ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা হামলার হোতা দেখিয়ে গ্রেফতার করা হয়। শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসীর মামুনকে চোখবেঁধে তালেবানী কায়দায় নির্যাতন করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে বিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শাহরিয়ার কবিরের জামিনের বিষয় আলাপ করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে লন্ডনভিত্তিক এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারী জেনারেল আইরিন খান লন্ডন থেকে এসে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর আইরিন খান সাংবাদিকদের যা বললেন তার মর্মকথা- প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, শাহরিয়ার কবিরের কেইস জটিল, এখনই তাকে মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়। (সংসদ ইউএনবির)।

২০০১ সালে ১৯ ডিসেম্বর নিউ ন্যাশেনের সংবাদ- “চার দিনে রাজধানীতে ১৫ জন সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিহত। ২২ ডিসেম্বর ২০০১ এর সংবাদ আড়াই হাজারে বিএনপির ঘোষণা দিয়ে তাণ্ডব উক্ত থানার মাহমুদপুর ইউনিয়নের আশুয়ানন্দি গ্রামে নৌকার পক্ষে কাজ করায় ১৮ বাড়িতে ক্যাডাররা লুটপাট চালায়। তাদের গরু ছাগল, আসবাবপত্র, হাঁস-মুরগী, খড়ের টিন, বাঁশ বেড়া টিউবওয়েলের মাথা পর্যন্ত খুলে সন্ত্রাসীরা লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় ২৫ জন আহত হয় (১৮টি পরিবারের নারী ও শিশুরা নদী সাঁতরিয়ে অন্য গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সরকারী দলের সংসদ সদস্যের ভয়ে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। বাগেরহাটের সংবাদ : সংখ্যালঘুর বাড়িতে ডাকাতি। মাছের ডিপোতে লুট। বিএনপির ক্যাডারদের সন্ত্রাস চাঁদা দিতে না পারায় গাজীপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে যখম। রাজশাহীতে ঘরে আগুন, চার দলীয় জোটের সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ টিভিতেও ইতিহাস বিকৃতির নাটক করে দেখানো হয়। বিজয় দিবসের নাটক ‘একটি বুলেটের ইতিহাস’। বিএনপি-জামায়াত মিলে আজগুবি তথ্য প্রচার করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হেয় করে প্রচার করে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কাছে নিজেই আত্মসমর্পণ করে ধরা দেয়। বঙ্গবন্ধু নাকি একজন আপোসকামী ক্ষমতালিপ্সু, ভীতু প্রকৃতিরও রাজনৈতিক নেতা এসব চিত্রায়িত করা হয়। নাটকটি ১৬ ডিসেম্বর ৮:৩০ মি: ২০০১ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয়। (জনকণ্ঠ সংবাদ) ১৯ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জে চর ডুমুরিয়া গ্রামে বিএনপি সন্ত্রাসিরা আওয়ামী লীগের কর্মীর নেতার লাশ দাফনে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে। চাঁদা দিতে না পারায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায় মোজাফর হোসেন।

চট্টাগ্রামের মীরসরাইয়ে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল লুটের সময় বাধা দেয়ায় বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় ৮ জন আহত হয়। পিটিয়ে আহত করে একজন ব্যবসায়ীকে।

১৮ ডিসেম্বর ২০০১ জনকণ্ঠের সংবাদ- সিআইডির তদন্ত অফিসার মুন্সি আতিকুর রহমান শুক্রবার শাহরিয়ার কবিরকে ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে, আজও তদন্ত অফিসার তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। আদালতে শাহরিয়ার করিব তার ওপর অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরলে উপস্থিত আইনজীবীসহ অনেকেই মর্মাহত হন। অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। জোট সরকারের কি আশ্চর্য ফরমুলা বোমাবাজি হয় ময়মনসিংহে আর ঢাকায় আসামি করা হয় দেশের বরণ্য ব্যক্তিদের। এ থেকে দেশের প্রগতিশীল সাংবাদিক আবেদ খানও বাদ যায়নি। এ সব কাদের ইঙ্গিতে করা হয়েছে। দেশবাসীর জানা একই মাসে জনকণ্ঠের সংবাদ ছিল- চাঁদা না দেয়ায় রাঙ্গুনিয়ায় সোনার দোকান লুট করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। রংপুরে কালী মন্দির ভাঙচুর।

মুন্সীগঞ্জে বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছে জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জামাল হোসেন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভেজিটেবল অয়েল মিলের শ্রমিক কলোনিতে বিএনপির সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর ও লুটতরাজ করে আওয়ামী সমর্থিত লোকদের ঘরে। থানায় অভিযোগ করা সত্ত্বেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। চট্টগ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতি-দিনেদুপুরে গামেন্টের ১৬ লাখ টাকা লুট। পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে তারা সবাই ছাত্রদল ক্যাডার (১২ ডিসেম্বর ২০০১ জনকণ্ঠ)।

আমাদের কাগজের ২৭ ডিসেম্বর ২০০১ সংবাদ শিরোনাম ছিল- দরপত্র ছিনতাই, মারধর ও অনাধিকার প্রবেশের কারণে সরকারদলীয় এমপি পিন্টু গ্রেফতার। এক মাসের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে প্রেরণ। সরিষা বাড়িতে আওয়ামী লীগ কর্মীর মাকে খুন। মাগুরায় পোস্টার লাগিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি হুমকি। নাটোরে লালপুরে বিএনপি সন্ত্রাসীরা নৌকায় ভোট দেবার অপরাধে এক কৃষকের শ্যালো মেশিন জ্বালিয়ে দেয়। অপরদিকে শ্রীপুর উপজেলায় সারঙ্গদিয়া গ্রামে একটি দোকানে চা-খাওয়ার সময় বিএনপির সন্ত্রাসীরা হাতুড়ি দিয়ে রেজাউল নামে এক যুবক আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় পিটিয়ে আহত করে। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পল্টন ময়দানে তিনদিনের তফসির মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে জামায়াতের এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বলেন, লেখক সাহিত্যিক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির মুরতাদ। তাছাড়া তিনি দেশবরণ্য ব্যক্তিদের নাম বিকৃত করে বক্তব্য রাখেন (জনকণ্ঠ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০২)।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাইফিয়া গ্রামের জহিরউদ্দিনের কন্যা বেদানা বেগম সম্ভ্রম হারিয়ে ২৪ অক্টোবর ২০০১ সালে একদল বিএনপি জামায়াত-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলায় বেদানার বাবা আওয়ামী লীগ কর্মী হওয়ায় বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। বাড়ির সবাই প্রাণের ভয়ে পালায়। বেদানা পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে তারা সন্ত্রাসীদের ভয়ে বেদানাকে আশ্রয় দেয়নি। সে বাড়িতে ফিলে এলে সন্ত্রাসীরা মার সামনেই বেদানাকে করে ধর্ষণ করে। এ কাহিনী ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ জাতীয় কনভেনশনে বেদানার মুখে এমন লোমহর্ষক কাহিনী শুনে বিশিষ্ট সাংবাদিক রাহাত খান বলেন, ওর নাম বেদানা তাই বেদনা। সরকার সন্ত্রাসীদের দমন না করে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমির বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে সন্ত্রাসীদের দ্বারা ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটতরাজ হত্যার বহু করুণ কাহিনীর বর্ণনা দেন। ২৭ নভেম্বর ২০০১ সালে বাগেরহাটের বিষ্ণুপুরে একই পরিবারের দাদি মা ও কন্যা ধর্ষণের শিকার হয়। যারা একাত্তরের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল তারাই আজ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছে।

চারদলীয় জোট সরকারের ১শ দিনের হিসাব: ঢাকার পরিবহন টার্মিনাল দখল। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির ঘটনা ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। রাজধানীর ১৭টি গরুর হাট ছিনিয়ে নেয় সরকারী দলের সমর্থকরা। জ্বালানি তেল বিদ্যুত গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়তে থাকে। জোট সরকার সে দিকে খেয়াল না দিয়ে বিরোধী দলকে সাইজ করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। আর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিভিন্ন সভায় ঢাকঢোল পিটিয়ে বলতে থাকেন দেশ উন্নয়নের বন্যায় ভাসছে। অপর দিকে সরকারী হিসাব মতে একশত দিনে ৯২৮ জন খুন হয়েছে। নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে। ধর্ষণ এ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ও সহস্রাধিক আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ওপর হয়রানিমূলক মামলা হতে থাকে। প্রশাসনের কর্মচারীদের শাস্তিমূলক বদলি। চাকরিচ্যুতি শুদ্ধি অভিযান চলতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের বাধ্যতামূলক চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে নিজেদের দলীয় লোকদের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দখল ও জামায়াতের প্ররোচনায় বিভিন্ন স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করে জিয়াউর রহমানের নিয়ে চলে টানা হেঁচড়া। তাকে স্বাধীনতার ঘোষক করার চেষ্টা। পাঠ্য পুস্তকে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়। জনকণ্ঠই সর্বপ্রথম গ্রামে-গঞ্জে জোট সরকারের ক্যাডারদের দ্বারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সংবাদ প্রকাশ করে। ফলে হয়রানিমূলকভাবে জনকণ্ঠ পত্রিকার ভবনের বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন করা হয়। সেই সঙ্গে সরকারী সকল প্রকার বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করে পরে প্রগতিশীল ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে সরকার পিছু হটে। ব্যাংক থেকে চার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে মন্ত্রী এমপিদের মধ্যে বিলি বণ্টন করে এবং ড্যান্ডি ডাইংয়ের বারো কোটি টাকার সুদ মওকুফ করে দেয় জোট সরকার। সরকারী টেলিভিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। বেসরকারী চ্যানেল একুশের টিভিকে বন্ধ করে দেয়। অন্য টিভি চ্যানেলকে বন্ধ করে দেবার পাঁয়তারা করে। ৩০ ডিসেম্বর ২০০১ আড়াইহাজার থানার অওয়াজি গ্রামে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা বিএনপি সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতিত মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। ২২টি পরিবারের নারী পুরুষরা এ সময় শেখ হাসিনাকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ২০ জানুয়ারি ইত্তেফাকের সংবাদ : ইসলামী ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ দাবি করেন ইসলামী ঐক্যজোটের জন্যই নির্বাচনে চারদলীয় জোটের বিজয় সম্ভব হয়েছে।

কাশিম বাজার কুঠির হাওয়া ভবন: (সূত্রও ১৭ জানুয়ারি ২০০২ প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে) তৎকালীন সাইফুর রহমান বেগম খালেদা জিয়াকে ২৯ মিন্টু রোডে তার সরকারী বাসভবনে বসে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘ম্যাডাম আপনার হাওয়া ভবনে যেতে পারব তো? খালেদা জিয়া তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী মুচকি হেসে জবাব দিয়েছিলেন- এ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে অবশ্যই যেতে পারবেন। শুরু থেকেই হাওয়া ভবন বহুল আলোচিত ছিল। বনানির বাড়ি ৫৩ ঠিকানায় হাওয়া ভবন অবস্থিত। তিন তলা বিশিষ্ট বাড়ি। বিশাল গেইটে সার্বক্ষণিক দু’জন আনসার প্রহরায়ও ছিল। অনুমতি না পেলে কারও পক্ষে হাওয়া ভবনে প্রবেশ করা সম্ভব ছিল না। যারা এই বহুল আলোচিত হাওয়া ভবনের নাম শুনেছেন অথচ চোখে দেখেননি তাদের জানার উদ্দেশ্যে প্রতিবেদক হাওয়া ভবনের ডেস্ক্রিপশন দিয়েছেন।

নিচতলায় প্রথমেই একটি কাচের দেয়াল ঘর। তার পাশেই ব্রিফিং রুম। তার পরই বিশাল হল রুম। দোতালায় বসতেন খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া। যাকে বিখ্যাত কলামিস্ট একুশের কবি আব্দুল গাফফার চৌধুরী প্রিন্স নামে তাকে কলামে আখ্যায়িত করেছিলেন। তারেক রহমানের কক্ষটি কম্পিউটার ও ফ্যাক্স দিয়ে সাজানা ছিল। এই অফিসে বসেই সে সারাক্ষণ সারাদেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তিন তলায় রান্নাঘর খাবার জায়গা ও তার কর্মচারীদের থাকার স্থান। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে সরকার গঠন করার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বদলি পদোন্নতি ও নিয়োগ হওয়া ভবন থেকে মনিটর ও চাপ প্রয়োগ করা হতো। সরকারী খাত থেকে বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের জন্য বিভিন্ন তদবির হাওয়া ভবন থেকে হতো বলে সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে কিছু ব্যতিক্রমও ছিল। বিএনপি সরকারের মধ্য থেকে অনেক মন্ত্রী হাওয়া ভবনের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে বিরক্ত হয়ে সমালোচনা করতেন।

২৬ জানুয়ারি ২০০২ জনকণ্ঠের একটি রিপোর্টে জানা যায়, ঠাকুরগাঁয়ের পল্লীতে আবুল হোসেন নামে এক জামায়াত সে তার তান্ডবে ৪০টি সংখ্যালঘু পরিবার ঘরছাড়া ও আহত হয়ে দুই মহিলা হাসপাতালে। একদলীয় শাসন বনাম বহুদলীয় গণতন্ত্র শীর্ষক এক আলোচনা সভায় চারদলীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ আর কোন দিন ক্ষমতায় আসবে না।’ তাছাড়া বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সংখ্যালঘুদের ভিটেমাটি ছেড়ে দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সংখ্যালঘুরা যদি নিজেদের অপকর্মের জন্য প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যায় তাদের দাদা সোনা বলে দেশের মাটিতে ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের নয়। (জনকণ্ঠ ১/২৬/২০০২)

১০ জানুয়ারি ২০০২ আজকের কাগজের সংবাদ ছিল- ৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে এক জনসভায় ওয়াজ মাহফিলে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ঘোষণা দেয় দেশের সকল ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা হবে। সাঈদীর এহেন বক্তব্যের জবাবে এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাক এর প্রতিবাদ করে বলেন, ভাস্কর্য ভাঙ্গার দুঃসাহসের সমুচিত জবাব দেবে বাঙালী জাতি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানান। ৮ মার্চ ঢাকায় জামায়াতে ইসলামের সমাবেশে তালেবান বিপ্লবের ঘোষণা দেয়া হয় (খবর) ইউএনবির খবর। জনকণ্ঠে ৮ জানুয়ারি ২০০২ সংবাদ : রাজশাহীতে ঠিকাদারের কাছে চাঁদা না পেয়ে ঈদগার দেয়াল ভেঙ্গে দেয় বিএনপির সন্ত্রাসীরা। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ৮ জনকে পিটিয়ে জখম করে। আরও একটি সংবাদ : বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাড়াই নতুন ব্যাংক নোট বাজারে শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ব্যাংক নোটগুলো বাজার থেকে পর্যায়ক্রমে তুলে নেবার ষড়যন্ত্র চলছে। ১৯৭৪ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলেও বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার জন্য বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ব্যাংক নোট বাজার থেকে তুলে নেয়া হয়। কামরাঙ্গিরচরে চাঁদাবাজির মহড়া পত্রিকার হকারদের ওপর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বিএনপির ক্যাডাররা চালু করেছে নতুন এই নিয়ম। তাদের সাফ কথা পত্রিকা বিক্রি করতে হলে চাঁদা দিতে হবে। নইলে ছাড়তে হবে এই ব্যবসা। তাছাড়া জনকণ্ঠ পত্রিকা বিক্রির ব্যাপারে রয়েছে তাদের বিশেষ কড়াকড়ি। উপায়ান্তর না দেখে হকাররা ক্যাডারদের চাঁদা দিয়েই চলেছে। ওদিকে কক্সবাজারে ছাত্রলীগের কর্মীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ১৭ জানুয়ারি ২০০২ জনকণ্ঠের আরও একটি সংবাদ : ৩০ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসর দেয়া হচ্ছে। জোট-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ৭৩ ব্যাচের পুলিশ প্রশাসনকে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের বাধ্যতামূলকভাবে অবসর দিয়ে জামায়াত সমর্থিতদের পদোন্নতি দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও নিযুক্তি দেয়া হয় একজন ঘোর জামায়াত সমর্থকে।

বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে যেতে বাধা: (২২ জানুয়ারি ২০০২ জনকণ্ঠ) সোমবার ক্যান্টমেন্টের ভেতর দিয়ে টঙ্গী এজতেমায় আখেরী মোনাজাতে যেতে বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাধা দেয়া হয়। প্রতি বছরই ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর গাড়ি টঙ্গী এজতেমায় যায়। কিন্তু এবার তার গাড়ি বহরকে বাধা দিলে শেখ হাসিনাকে মহাখালী ঘুরে টঙ্গী যেতে হয়েছে। আমাদের ধারণা একটি বিশেষ ভবনের নির্দেশে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রীর গাড়ি যেতে দেয়া হয়নি।

জনকণ্ঠকে হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ: ২১ জানুয়ারি ২০০২ রিপোর্টার্স সান ফ্রন্টিয়ার্স। বিএনপি সন্ত্রাসীদের কুকর্মকাণ্ডের সত্য কথা প্রকাশ করায় দৈনিক জনকণ্ঠের সরকারী বিজ্ঞাপন বন্ধ, বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ সম্পাদকের ওপর হয়রানিমূলক মামলা বন্ধে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল রবার্ট ম্যাক নরর্ড এক চিঠিতে জনকণ্ঠ সাংবাদিকদের হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রেকর্ড অনুসারে পত্রিকাটির কমপক্ষে ৮ জন সাংবাদিক শারীরিকভাবে নিগৃহীত হন। ১২ জনকে হুমকির শিকার হতে হয়েছে। বিদেশের দূতাবাসসমূহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনকণ্ঠ পাঠানো বন্ধ করে দেয়। জানুয়ারির ২০ তারিখে ২০০২ ইনকিলাব পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম ছিল-ইসলামী ঐক্য জোটের মুফতি আমেনী সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না। চারদলীয় জোট সরকার পাঁচ বছর পর ক্ষমতায় এসেই জনতার মঞ্চের সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়। এবার তারা আবার ক্ষমতায় গেলে ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দীনের বিচার করবে বলে ঘোষণাও দিয়েছে। সেই সঙ্গে যে সব সামরিক বাহিনীর লোক ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সহায়তা করেছে তাদেরও বিচার করবে। ১৯৮৯ সালে সংশোধিত সরকারী কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ ১৯৭৯ সালের ১১ নং অধ্যাদেশ এর ৩-এ ও ৩-সি ধারায় অপরাধ দেখিয়ে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারী চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়।

৩১ জানুয়ারি ২০০২ অষ্টম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম দিন নতুন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী তার প্রথম ভাষণ দেবেন। বঙ্গবন্ধুকে জাতীয় নেতাদের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তার নাম লিখে। জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উচ্চ স্থান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভাষণের খবরটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন না দিয়ে নতুন করে লেখার নির্দেশ দেয়া হয়। সভায় এক মন্ত্রী নাকি খালেদা জিয়াকে খুশি করার জন্য বলেন, শেখ মুজিবের নাম সবার আগে থাকতে পারে না। নামের সিরিয়ালের প্রস্তাব দেন তিনি। এতে সবাই সম্মতি দেন (২৩ জানুয়ারি ২০০২ জনকণ্ঠ)। চট্টগ্রামে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির মতলব করছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতার কোন স্থান নেই। অথচ ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মহীনতার সঠিক অর্থ সাঈদী নিজেই জানে না। আজকের কাগজ ও ইনকিলাব ২৩ জানুয়ারি ২০০২)।

ইতিহাস বিকৃতির পক্ষেও যশোরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেদওয়ান আহাম্মদ বলেন- ১৯৭১ সালে ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমানই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার ঘোষণায় মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল (২৩ জানুয়ারি ২০০২ জনকণ্ঠ)। স্কুলের পাঠ্য পুস্তকে কোমলমতি শিশুদের ইতিহাস বিকৃতি শেখানো হয়। ’৭১-এ সুপ্রিম কমান্ডার ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। ইতিহাসের এই ভাষণ দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়েছে। অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্য পুস্তকের ‘সাহিত্য কণিকায়’ হুবহু এ কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। অভিভাবক শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করে এতে। নিবন্ধের রচয়িতা দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কাজী সিরাজুদ্দীন আহাম্মদ, প্রথম আলোর প্রতিবেদক তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে তিনি তথ্যটির উৎস হিসেবে সৈয়দ আলী আহসানের একটি স্মৃতিচারণের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু তথ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন তিনি। পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে, নবম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে বোর্ডের সকল সংশোধিত পাঠ্য পুস্তকে ইতিহাস বিকৃতি স্থান পায়। কোমলমতি শিশুদের কাছে আসল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয় (২৩ জানুয়ারি ২০০২ দৈনিক প্রথম আলো)।

আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ: নবম ও দশম শ্রেণীর মাধ্যমিক বাংলা গদ্যে সংশোধিত ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এ কথা বিএনপি প্রমাণ করতে পারলে স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে চলে যাব। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ (২১ জানুয়ারি ২০০২ জনকণ্ঠ)। চারদলীয় জোট ক্ষমতায় যাবার পর পরই স্বতঃস্ফূর্ততায় ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত জেগে ওঠে। নাস্তিক মুরতাদ ও দেশদ্রোহীর তালিকা প্রস্তুত করে ইসলামী ঐক্য জোট। রাজধানীর একটি হোটেলে মুফতি আমিনীর নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, বিগত সরকারের সামনে যে সব অতি উৎসাহী সরকারী কর্মকর্তা বাড়াবাড়ি করছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহী ও মুরতাদ কর্মকর্তাদেরও তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইসলামবিরোধী সংস্কৃতি বাতিল, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে এনজিওদের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান (দৈনিক প্রথম আলো)। মানবাধিকার নেত্রী এ্যাডভোকেট সিগমা হুদা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে গতকাল শনিবার জিয়া মঞ্চে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির ভাষণে বলেন, যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের ভাল গুণকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও তার জীবদ্দশায় এক অনুষ্ঠানে তাকে একই কথা বলেছিলেন (দৈনিক প্রথম আলো)।

একুশে টিভির লাইসেন্স বাতিল: জোট জামায়াত ক্ষমতায় এসেই ’৫২’র ভাষা আন্দোলনের নামকরণে একুশে টিভি জামায়াতের নেতারা কোনক্রমেই মেনে নিতে পারেনি। কারণ একুশের টিভি সাধারণ মানুষের কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। সরকারের বেআইনী কার্যকলাপ প্রকাশ করে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে তৎকালীন বিএফইউজের একাংশের সভাপতি গিয়াস কামাল চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রব এবং ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান একুশে টিভির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেন।

বিতর্কিত বিচারপতি এম. এ. আজিজ ও বিচারপতি সিকদার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ একুশে টিভির লাইসেন্স কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কারণ দর্শানোসহ রুলনিশি জারি করেন। এসব জোট সরকারের ইঙ্গিতেই হয়। এরপর দেশের সকল সম্মানিত দর্শক ও বুদ্ধিজীবীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের ঐ বেঞ্চে একুশে টিভির সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ ঘোষণা করে। লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির পর হাইকোর্ট ও সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেয়। এরপরই আইনমন্ত্রী মওদুদ আহামদের অতি উৎসাহে একুশে টিভির সকল যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয় ও সংবাদ পাঠক ডালিমের আবেগ জড়িত কণ্ঠের ঘোষণার মধ্য দিয়ে একুশে টিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। জামাতের প্রথম পদক্ষেপ সফল হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি: রাজনৈতিক কারণে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অপসারণ করা হয়। শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুন নিসা নুন স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হামিদা আলী, উদয়ন স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, মিরপুর গালর্স আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রাজিয়া হোসেন, তেজগাঁ কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, ডেমরা দনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ সাহাদত হুসাইন রানা- তারা সবাই চার দলীয় জোটের রাজনৈতিক শিকার। অথচ তারা সবাই মেধা ও শ্রম দিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন শিক্ষাঙ্গনকে (জনকণ্ঠ ১৮ জুলাই ২০০২) রাজনৈতিক শিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে। শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, হামিদা আলী সরকারের সিদ্ধান্ত না মানলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২০০১ সালে জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ভেবেছিল দেশের সর্বস্তরে ইসলাম কায়েম করবে। কিন্তু দেশের প্রগতিশীল মানুষ তা মেনে নেয়নি। তার প্রমাণ পাওয়া যায় বুয়েটের ইউকসুর বার্ষিকীতে সম্পাদক তাবাসসুম মাহাজাবীন মুমু রাজাকারদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া সম্পর্কে তার সম্পাদকীয়তে সমালোচনা করায় বিএনপি-জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্র শিবির মুমুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ও তাকে ক্ষমা চাইতে বলে। মুমু ক্ষমা না চেয়ে প্রতিবাদস্বরূপ ছাত্র সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। বিবৃতিতে মুমু ছাত্র ইউনিয়নকে তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে বলেন, ইউকসু রাজাকারদের সমর্থন করে জামায়াত শিবিরের পক্ষ অবস্থান নেয় এবং ভিপি জিএস হামলাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। সেই ছাত্র সংসদে তিনি থাকবেন না। তাছাড়া এই বুয়েটের মধ্যেই একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যায় ছাত্রদলের ক্যাডারদের দ্বারা। ৮ জুন ২০০২ টেন্ডারবাজি নিয়ে সরকারী দলের ছাত্রফ্রন্ট ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দু’গ্রুপের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে বুয়েটের মেধাবী ছাত্রী সনি মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুপুরে মসজিদের ভেতর কোরআন শরীফ তেলায়াতের সময় কৃষক লীগ নেতা এসএম আজমকে ক্ষমতাসীন দলের যুবদল ছাত্রদলের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা মসজিদের ভেতরে ধারালো দা দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে।

সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটায় জোট সরকারের পুলিশ বাহিনী। গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলে ঢুকে পুলিশের নজিরবিহীন হামলা চালায় ছাত্রীদের ওপর। পুরুষ পুলিশেরা হল কক্ষের বাইরে থাকা মেয়েদের শুধু নির্যাতনই করেনি, গভীর রাতে কক্ষে বা বাগানে লুকিয়ে থাকা মেয়েদের চুল ধরে টানতে টানতে গাড়িতে ওঠানোর সময় বলেছে, গৃহিণীরা তোমাদের তেজ গেল কোথায়? পত্রিকার সংবাদে জানা যায়, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছরের বেশি সময় শান্তিপূর্ণভাবে পার হলেও ছাত্রী হলে পুলিশের হামলার ঘটনা সেটাই প্রথম। হলের ভেতরে এই অভিযানের নেতৃত্ব দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আবদুর রহিম। তিনি পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। সেদিন ধর্ষণ ছাড়া পুলিশ সব কিছুই করেছে। পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীও অংশ নিয়েছিল। এই হামলা ছিল নিজামী-মুজাহিদীর ’৭১-এর ২৫ মার্চের টেস্ট কেস। সেই কহিনুর মিঞা, শক্তি সঞ্চয় করে বিএনপির ক্যাডার হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত (এডিসি ডিবি)।‌

তার নেতৃত্বে পুলিশ চারদিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ ছাত্রীদের ওপর। সাধারণ ছাত্ররা প্রতিবাদ সভা করলে সোয়া ১২টার দিকে এক উপমন্ত্রীর ভাই ছাত্রদলের ক্যাডারদের নিয়ে সাধারণ ছাত্রদের বেধড়ক প্রহার করে। এ থেকে সাংবাদিকরাও রেহাই পায়নি। (সূত্র : ২৮/৯/২০০২ যুগান্তর, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক)। দৈনিক জনকণ্ঠ জোট সরকারের এসব ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশ করলে সরকারী দল জনকণ্ঠের ওপর চড়াও হয়। ২৮ জুলাই ২০০২ বিশিষ্ট কবি লেখক ও নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক জনকণ্ঠে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে লিখেছিলেন- জনকণ্ঠ রুদ্ধ হলে স্বাধীনতার চেতনা থেকে নিষ্প্রভ হয়ে যাব। প্রতিদিনের সংবাদপত্রে হত্যা, খুন, গুম, সন্ত্রাস, নারীর সম্ভ্রমহানির যে সব খবর ছাপা হয়, তার চেয়ে আর বড় প্রমাণ কি আছে, আমরা দেশে নয় জঙ্গলে বাস করছি। যতটুকু বাকি ছিল তা চূড়ান্ত হয়ে গেল রাতের অন্ধকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে পুলিশী তাণ্ডবের ঘটনায়। তাছাড়া ওয়াশিংটন প্রবাসী বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে ১৩২ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সরকারী দল মামলা করার যে হুমকি দিয়েছে, তা শুধু সংবাদপত্রের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপই নয়, নজিরবিহীন। দেশের কোথায় কি ঘটছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করার দায়িত্ব সংবাদপত্রের।

২৭ জুলাই ২০০২ লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্য ৮ জুলাই জনকণ্ঠে প্রকাশিত হয়। তিনি লিখেন, দুই ডিআইজি, তিন এসপির বদলির দাম উঠেছে প্রায় দুই কোটি টাকা শিরোনামে যে রিপোর্টকে কেন্দ্র করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দণ্ডবিধির ১৩১ ও ১৩২ ধারায় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার হুমকি দিয়েছে, তা একটি আকস্মিক ব্যাপার নয়, পূর্ব পরিকল্পনার চক্রান্ত। এর আগে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই পত্রিকাটির বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়। তারপর জনকণ্ঠ অফিসের বিদ্যুতের বিল বকেয়া না পড়া সত্ত্বেও অন্য অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়া হয়। পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের নানাভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি তো চলছেই। সন্দেহ নেই জনকণ্ঠ দেশের মানুষের অভাব অভিযোগ, তাদের অত্যাচারিত, নিপীড়িত হওয়ার কাহিনী সাহসের সঙ্গে তুলে ধরছে। জনকণ্ঠের ৮ জুলাইয়ের রিপোর্টটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয় কিভাবে? চিহ্নিত রাষ্ট্রদ্রোহীদের নিয়ে সরকার গঠনের পর খালেদা-নিজামী জোট এখন চারদিকে রাষ্ট্রদ্রোহী খুঁজে বেড়াচ্ছে। দেশের যত দেশপ্রেমিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সরকারী অফিসারদের বিরুদ্ধে একটার পর একটা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা সাজানোর অপচেষ্টা চলছে। সেই পাকি শাসকদের এই চার দলীয় জোট সরকার অনুসরণ করে চলেছে। সরকারের সমালোচনা করলেই সে ভারতের দালাল আর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ঠুকে দিচ্ছে।

একুশের (ইটিভি) টিভি বন্ধ হবার নেপথ্যে: দেশ ও বিদেশের সচেতন নাগরিকরা অনেকেই মনে করে ২১ টিভি বন্ধ হবার পেছনে অতি উৎসাহী জামায়াতের হাত রয়েছে। জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়ায় সারাদেশে ও প্রবাসে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আদালতের রায় ঘোষণার পরই দেশের ৬টি কেন্দ্র একুশের টেরেস্ট্রিয়াল লিঙ্ক সংযোগ বাতিল করে দিয়ে এ সব কেন্দ্র সিলগালা করে দেয়। একুশে টিভি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় তাদের সব টাওয়ার ও ভিএইচএফ যন্ত্রপাতি অনতিবিলম্ব খুলে নিতে। টিভি চ্যানেলটির দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পরিমাণ এক শ’ কোটি টাকার মতো। বৃহস্পতিবার ১০:৫৫ মি: রাতে একুশের টিভির সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সুপ্রীমকোর্টের রায় ঘোষণার পর পরই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলামকে ডেকে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে এ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফকে। সেখানে অতি দ্রুত একুশের টিভির সম্প্রচার বন্ধে অতি দ্রুত সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বেরুবার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় সরকারী নানা পদক্ষেপের বাস্তবায়নের বিটিভির মহাপরিচালককে একুশে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে দিতেও নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় অন্য সব কেন্দ্রের সম্প্রচার বন্ধের কার্যক্রম। সরকারী প্রেস নোটে সিনিয়র সহকারী তথ্যসচিব রতন চন্দ্র পণ্ডিত স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, একুশে টিভির লাইসেন্সের আইনগত কোন বৈধতা নেই। সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ নির্দেশ পাবার পরই ঝড়ের বেগে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করে। দু’জন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা হুমকি দিয়ে বলেন, দ্রুত সম্প্রচার বন্ধ না হলে তারা বলপ্রয়োগ করবেন। সর্বমহলের সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে একুশের টিভি বন্ধ করে দেবার আগে কর্তৃপক্ষ একুশের শেষ ঘোষণা দেয় ‘একুশে টেলিভিশন বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক বিশ্বমুখী জানালা খুলে দিতে সাহায্য করেছে।…একুশে টেলিভিশন আপনার টেলিভিশন…সংবাদ পাঠক শামসুদ্দীন হায়দার ডালিম শেষ ঘোষণা পাঠ করতে গিয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেন। তার আবেগজড়িত কান্না টিভির দর্শকদেরও স্পর্শ করে। সেই কান্না ছড়িয়ে যায় দেশের সবখানে। কিন্তু একাত্তরের রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের ১৬ ডিসেম্বর যে কালিমার দাগ পড়েছিল মুখে তাদের বিজয়ের সূচনা হয়। টিভি বন্ধ হয়ে যাবার পর সরকারের মধ্যে একটি প্রভাবশালী মহল লাইসেন্স দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে দুর্নীতির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়। মামলা দায়ের করার জন্য একটি মহল খুবই আগ্রহ ও উৎসাহ দেখায়। শুধু তাই নয়, ইটিভির উপদেষ্টা বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতার প্রামাণ্য চিত্র বিদেশে প্রেরণ করে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের সমর্থন যুগিয়েছেন সেই বিশিষ্ট সাংবাদিক ব্রিটিশ নাগরিক সায়মন ড্রিককে বাংলাদেশ থেকে জামায়াতের নির্দেশে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করে। সে সময় স্বরাষ্ট্র সচিব ছিলেন জামায়াত সমর্থিত ওমর ফারুক। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ঘাপটি মেরে থাকা যুদ্ধাপরাধীরা ইটিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়ে সেকুলারিজমের ওপর প্রথম আঘাত হানে ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে আসে চরম হতাশা।

সংবাদপত্রের আরও খবর: বরিশাল বিএনপির টপটেররের বাড়ি থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার। সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া হিজলদি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে গভীর রাতে ধরে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে গণধর্ষণ। অপরাধীরা সবাই বিএনপির সমর্থক। এই পরিবারটির অপরাধ এরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। ২১ আগস্ট ২০০২ সন্ধ্যায় রামপাল বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে বিএনপির ক্যাডাররা আওয়ামী লীগ নেত্রী ছবি রানী মণ্ডলকে ধরে নিয়ে যায় তাদের অফিসে। তারা মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালায়্, উলঙ্গ করে ছবি তুলে। সর্বাঙ্গ হাতুড়ি দিয়ে পেটায়। মাথার চুল কেটে দেয়। জনকণ্ঠ সংবাদ (২৮ আগস্ট ২০০২) ভোলায় কিশোরীকে গণধর্ষণ। পাবর্তীপুরে গৃহবধূকে ফের ধর্ষণ। জামায়াত জোট সরকারের ক্ষমতায় আসার সাত মাসে ৬৫৮১ নারী ধর্ষণ বা নির্যাতন সংঘটিত হয়। দেশে নারী নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। যার অধিকাংশই সরকারী দলের ক্যাডার। সরকার স্বীকার করে খুলনার বাগেরহাটের ছবি রানী সরকার দলীয় ক্যাডারদের হাতে মরাত্মকভাবে আহত হবার খবরে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দশ মাসে রামপাল মংলা এলাকায় নির্বাচনের পর চার দলীয় জোট সরকারের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরেন। বাঁশখালী ইউনিয়নের শেখ কলিম উল্লাহর পিতা ইন্তেকাল করলে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর পিতার মরদেহ দাফনের জন্য ইসলামাবাদ গ্রামে গেলে বিএনপির সন্ত্রাসী শহীদুল্লাহ্র নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ করার অপরাধে। যাদের ওপর হামলা হয়েছে সোহাগ, সুরিয়া বেগম, নাসিমা বেগম, হামিদ আলী, অধীর সরকার, চিত্তরঞ্জন বাছার, মুক্তাদির, ইউপি চেয়ারম্যার আবু বরক ও তার ছোট ভাই, অজিত পাল, অরুণ রায়, আশুতোষ মণ্ডল, নেপাল চন্দ্র, শুশান্ত মণ্ডল- এদের জামায়াত-শিবির ও যুবদলের সন্ত্রাসীরা ব্যাপক মারপিট করে। অনেকের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। অনেকের জমি দখল হয়ে গেছে। এমপি খালেক দাবি করেন, এরকম শত শত উদাহরণ দেয়া যাবে। বিএনপি নেতাদের চাপে প্রশাসন চাকরি হারানোর ভয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে না।

রাজধানীতে ৮৩ দিনে ৮০ খুন (দৈনিক জনকণ্ঠ)। তাছাড়া সন্ত্রাসের গত তিন মাসের হালচিত্র দেশের সংবাদপত্রের হিসাব দিয়েছেন ইস্কাটন থেকে সুদীপ্ত হাসান ও আনোয়ার হাসান দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত ২০০২।

২০০২ সংবাদপত্রে প্রকাশিত গত তিন মাসের সন্ত্রাসের পরিসংখ্যান এখানে উল্লেখ করতে চাই। এতেই সন্ত্রাসের তান্ডবলীলা কত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তা সবাই উপলব্ধি করতে পারবেন বলে আমরা মনে করি।

বিপজ্জনক এলাকা-৫ মাসে যেখানে খুন হয়েছে ১৯ জন (৫ মে, মানবজমিন), ছিনতাইকারীর বুলেটে বিদ্ধ। বাবার কোলের শিশু নওসীন (১০ মে, জনকণ্ঠ); শপথ গ্রহণের ৪ দিনের মাথায় ওয়ার্ড কমিশনার নিউটন খুন (১১ মে, প্রথম আলো); নারিন্দায় প্রাইভেট কারে গুলি ব্যবসায়ীসহ নিহত ২ (১১ মে, প্রথম আলো); টার্গেট ওয়ার্ড কমিশনার ৫ মাসে ৩ জন জুন (১১ মে, ইনকিলাব); রাজধানীতে ৬টি খুন ॥ পুলিশসহ গুলিবিদ্ধ ১২ (১২ মে, ইত্তেফাক); মতিঝিল ও বিজয়নগরে ২ খুন ॥ লালবাগ ও মোহাম্মদপুরে ৩ গুলিবিদ্ধ (১৫ মে, জনকণ্ঠ); কোটি টাকার সম্পত্তি মামলার জের ধরে নারিন্দায় খুন হলেন ব্যবসায়ী বাবলা ও আইনজীবী আনোয়ার (১২ মে, জনকণ্ঠ); রাজধানীতে প্রতিঘণ্টায় ১ খুন (১৩ মে, জনকণ্ঠ); ঢাকায় ট্রিপল মার্ডার-স্ত্রী ও দুই শিশুপুত্রকে নির্মমভাবে খুন (১৩ মে, ইত্তেফাক); ফার্মগেট বনানী ও নাখালপাড়ায় আরও তিন খুন ॥ নবজাতকের লাশ উদ্ধার (১৫ মে, জনকণ্ঠ); যুবক নিহত ॥ ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেফতার ৫ (১৩ মে, ইত্তেফাক); সন্ত্রাস চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য মিরপুরে নতুন সংযোজন ক্যাশ লুট (২৬ মে, জনকণ্ঠ); লালবাগ এখন সন্ত্রাসের জনপদ-পুলিশ-সন্ত্রাসী সখ্য ॥ এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল, ওয়ার্ড কমিশনারের একাত্মতা (২১ মে, জনকণ্ঠ); জোটের আরেক কমিশনার বীনা খুন-শ্যামপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে জবাই। লালবাগে বিএনপি ক্যাডারকে হত্যা (২৩ মে, জনকণ্ঠ); গান পয়েন্টে ২৫ কমিশনার বাড়িতে ঘুমাল না অনেকে (২৬ মে, মানবজমিন); শাহবাগে ছুরিকাঘাতে ফুল ব্যবসায়ী খুন ॥ সুতা ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু (২৮ মে, জনকণ্ঠ); কালা জাহাঙ্গীর, ভান্ডারে অস্ত্র আছে ৫ কোটি টাকার, মাসে অবৈধ আয় ৩ কোটি টাকার বেশি ॥ তথ্য ভুট্টোর (২৮ মে, জনকণ্ঠ); লালবাগে বোমার শব্দে ঘুমাতে যাওয়া আর গোলাগুলিতে ঘুম ভাঙ্গা (২৯ মে, জনকণ্ঠ); মাটি ভরাট করা, গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধে মিজান খুন ॥ খিলগাঁও থানার চারজন সাসপেন্ড (৩১ মে, জনকণ্ঠ); রাজধানীতে তিনটি খুন ॥ চাঁদার দাবিতে নবাবপুর দোকান ভাংচুর করেছে কমিশনার পুত্র (২ জুন জনকণ্ঠ); ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনাররা আতঙ্কে অনেকে সন্ধ্যার পর বের হন না, নিউটন ও বীনা সরকার হত্যাকান্ডের মূল আসামিরা এখনও ধরা পড়েনি (২ জুন, প্রথম আলো); সোবহানবাগের সাবেক কমিশনার ও গেন্ডারিয়ায় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ॥ বোটানিক্যাল গার্ডেন ও সবুজবাগে ছিনতাই (৪ জুন, জনকণ্ঠ); রাজধানীর নারিন্দা ধনিয়া ও মহাখালীতে ৩ ব্যক্তি খুন (৬ জুন, ইত্তেফাক); মিরপুরে ঠিকাদার খুন, নাখালপাড়ায় পুলিশ কনস্টেবলের রহস্যজনক মৃত্যু (১১ জুন, প্রথম আলো); স্কুলছাত্রসহ ২ জন খুন ॥ পাইকপাড়া থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার (২১ জুন, জনকণ্ঠ); অপরাধীদের অভয়ারণ্যে তেজগাঁও শিল্প এলাকা ॥ প্রকাশ্যে চলছে জমি দখল চাঁদাবাজি অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা (২৩ জুন, জনকণ্ঠ); মোহাম্মদপুর এখন ক্রাইম জোন-চার মাসে ৫৫ খুন ॥ সংঘর্ষ বোমাবাজির ঘটনা প্রায়ই ঘটে ॥ এলাকার মানুষ জিম্মি (২৯ জুন, জনকণ্ঠ); ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের দুই গ্রুপের আশ্রয়ে সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও কালা জাহাঙ্গীর এখন যশোরে। দু’জনেই রয়েছে হত্যামিশনে, জনমনে আতঙ্ক (২৯ জুন, জনকণ্ঠ); মালয়েশিয়া ফেরত যাত্রীসহ রাজধানীতে ৪ খুন (২ জুলাই, ইত্তেফাক); ডেমরায় যুবক খুন ॥ পিচ্চি হান্নান গ্রুপ চাঁদার দাবিতে আমিরকে জবাই করেছে (৭ জুলাই, জনকণ্ঠ); গতমাসে ঢাকায় খুন হয়েছে ৪৭ জন ॥ ধর্ষণের ঘটনা ১০টি (৮ জুলাই, জনকণ্ঠ); রাজধানীতে তিনটি অপমৃত্যু ॥ পিস্তল ঠেকিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ (৮ জুলাই, জনকণ্ঠ); রাজধানীতে চব্বিশ ঘণ্টায় ২ গৃহবধূসহ ৪ খুন (১২ জুলাই জনকণ্ঠ); বুড়িগঙ্গা-লাশের শহর, (৩ জুলাই, জনকণ্ঠ); কলেজছাত্রসহ তিন খুন-রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে একজনের (১৬ জুলাই, জনকণ্ঠ); মিনা হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পল্লবীতে তরুণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন (১৭ জুলাই, ইত্তেফাক); ধলপুরে অপরাধীদের সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বন্ধ করতে মানুষের লাঠি ও বাঁশি নিয়ে মিছিল (২০ জুলাই, জনকণ্ঠ); দুটি হত্যাসহ ৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যু (২২ জুলাই, ইত্তেফাক); পল্লবীতে বোমা ফাটিয়ে ছিনতাই ॥ দুই গৃহবধূ এ্যাসিডে দগ্ধ (২২ জুলাই, জনকণ্ঠ); গার্মেন্টস কর্মকর্তাকে হত্যা করে পৌনে ৬ লাখ টাকা ছিনতাই, রাজধানীতে ৪ দিনের মাথায় দ্বিতীয় ছিনতাইয়ের ঘটনা (২৩ জুলাই, প্রথম আলো); ঢাকায় তিনজনকে গুলি করে হত্যা (২৪ জুলাই, ইত্তেফাক); চাঁদাবাজি ও পুলিশের হয়রানির প্রতিবাদ-পুরনো ঢাকার ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট পালন (২৫ জুলাই, সংবাদ); সুইডেন আসলামের স্ত্রীর হোটেল উদ্বোধন করলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী (২৯ জুলাই, জনকণ্ঠ); দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ইন্সপেক্টর খুন (২৭ জুলাই, ইত্তেফাক); রাজধানীতে দু’ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে চাঁদাবাজরা-নিউমার্কেট ও আজমপুরের দোকানপাট বন্ধ (৩০ জুলাই, ইত্তেফাক); সন্ত্রাসের জনপদ কেরানীগঞ্জ ॥ গত ৩০ বছরে ৫৫টিরও বেশি ক্যাডারবাহিনী গড়ে ওঠে (৩০ জুলাই, ইত্তেফাক)।

যুগে যুগে মানবজাতি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই বর্তমানের ওপর ভবিষ্যত রচনা করেছে। দেশের ও প্রবাসের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন মহাজোটকে সঙ্গে নিয়েই আওয়ামী লীগকে পথ চলতে হবে। একলা চলো নীতি পরিহার করে সামনের দিকে এগোতে হবে। মহাজোটকে আবারও ক্ষমতায় দেখতে চায় প্রগতিশীল নতুন প্রজন্ম। মহাজোটের মধ্যে হতাশা ভাব দেখা যাচ্ছে। এই হতাশা থেকে মহাজোটকে রক্ষার করার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের। নচেৎ এতে লাভবান হবে কারা? এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার ওপর জনগণের সে আস্থা, বিশ্বাস আছে বলেই জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।