• বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

  • || ১০ শা'বান ১৪৪৫

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
অশিক্ষার অন্ধকারে কেউ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী একুশ মাথা নত না করতে শেখায়: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আগামীকাল মিউনিখ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে নিমন্ত্রণ বাংলাদেশের গুরুত্ব বুঝায় গুণীজনদের সম্মাননা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি একুশে পদকপ্রাপ্তদের অনুসরণ করে তরুণরা সোনার বাংলা বিনির্মাণ করবে আজ একুশে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী মিউনিখ সফর শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী বরই খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, কারণ অনুসন্ধান করবে আইইডিসিআর দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দিন: প্রধানমন্ত্রী গাজায় যা ঘটছে তা গণহত্যা: শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, আজারবাইজান থেকে বড় বিনিয়োগ আহ্বান জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শান্তি ফর্মুলা বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার সহযোগিতা চাইলেন জেলেনস্কি কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা কিছু খুচরো দল তিড়িং বিড়িং করে লাফাচ্ছে: শেখ হাসিনা মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন

আসন ছাড় বাড়তে পারে ওয়ার্কার্স পার্টি-জাসদের

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২৩  

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জাসদ) দুটি করে চারটি আসনে ছাড় দেওয়া হতে পারে। দল দুটি বর্তমান সংসদে থাকা তিনটি করে ছয়টি আসনে এবারও যেকোনও মূল্যে ছাড় পেতে চাইছে। ১৪ দল সূত্রে এমনটা জানা গেছে।

সূত্রমতে, সোমবার (৪ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেখানে জটগত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হলেও, শরিকদের সঙ্গে আসনবণ্টন বা সমঝোতা হয়নি। বিষয়টি দেখতে জোটের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে আমুর বাসায় বৈঠক করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে দল দুটির সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যরা। বৈঠকে আসন ছাড়ের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরে জোটের সমন্বয়ককে বোঝানোর চেষ্টা করেন তারা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আমির হোসেন আমুর কাছে জাসদের নেতারা ১০টি আসনে ছাড় চেয়েছেন। আর ওয়ার্কার্স পার্টি ন্যূনতম সাতটি আসন চেয়েছে। অন্তত বর্তমান সংসদ সদস্য থাকা তিনটি করে ছয় আসনে দল দুটি ছাড় চাওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নেন নেতারা। এ বৈঠকে আসনবণ্টন বা সমঝোতার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে জানাবেন এবং ওবায়দুল তা শেখ হাসিনাকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন আমু। এ ব্যাপারে দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বর্তমান সংসদ সদস্য হওয়া কুষ্টিয়া-২ আসনে ছাড় পাচ্ছেন। ঢাকা-৮ থেকে একাধিক বার সংসদ সদস্য হলেও, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবার ছাড় পাচ্ছেন বরিশাল-২ বা ৩ আসনে। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য হলেও অন্য আসনে ছাড় পেতে পারেন। জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীণ আখতারের ফেনীর আসনে ছাড় না পেলেও, সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে পারেন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-২ ও তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে চট্টগ্রাম-২ আসনে ছাড়ের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা আমাদের প্রত্যাশার কথা জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুকে জানিয়েছি। তিনি জোট নেত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি জানাবেন। প্রত্যাশা ছয়টি আসনে ছাড়ের থাকলেও, কিছুটা কম পাওয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে কাল-পরশুর মধ্যে সিদ্ধান্ত আসবে।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) জোটের আসন বিন্যাস ও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, নির্বাচন জোটগতভাবে হবে, কাল (বুধবার-৬ ডিসেম্বর) জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা করবে আওয়ামী লীগ। জোটের আসনবিন্যাস ও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বৈঠক শেষে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, জোটের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক এবং রাতের খাবারের মধ্য দিয়ে এই বার্তা পরিষ্কারভাবে দিয়েছেন যে, জোট আছে, জোট একসঙ্গে নির্বাচন করবে। আসন ভাগাভাগির বিষয়টা আমরা নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবো।

ইনু বলেন, যেকোনও লেনদেনে দর-কষাকষি হবে, মন-কষাকষি হবে। বন্ধুদের মধ্যে দর-কষাকষি হয়, মন-কষাকষি হয়। দিনের শেষে হাসিমুখে হাত-ধরাধরি করে বেরিয়ে যাবো। যেখানে জোটের প্রার্থী আসবে, সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উঠে যাবে।

সূত্রমতে, ১৪ দলের অন্যতম বড় দল হিসেবে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ অন্য দলগুলোর চেয়ে বেশি আসনে ছাড় পেয়ে আসছে। এবারও তেমনটি আশা করছেন দল দুটির নেতারা। তবে চারটি দলের প্রধানদের চারটি আসনে ছাড় দেওয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। বাকি আসনে নির্বাচন উন্মুক্ত রাখার কথা জানিয়ে সবাইকে জিতে আসার কথা বলেন তিনি। জোটের শরিক দলগুলো সরকারি দলের সঙ্গে থেকে গত ১৫ বছরেও নিজেদের শক্তিশালী করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জোট নেত্রী।

তবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে আসন ছাড়ের ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হলে ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমকে এ কমিটিতে রাখা হয়েছে। তাদের জোটের দলগুলোর সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছে।

সূত্রে জানায়, বর্তমান সংসদে জাসদের সংসদ সদস্য আছেন তিন জন, ওয়ার্কার্স পার্টির তিন জন। একজন করে সংসদ সদস্য আছেন তরিকত ফেডারেশনের বর্তমানে একজন এবং জাতীয় পার্টির (জেপি)। তবে জেপি পাঁচটি আসনে এবং সাম্যবাদী দলের কোনও সংসদ সদস্য না থাকলেও, এবার একটি আসন চেয়েছে তারা। জোটের বাকি শরিক দলগুলোর বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই, তাদের প্রত্যাশাও কম।

বৈঠক সূত্রমতে, ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে সোমবার বেঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৫ বছরেও দল ঠিক করতে পারেননি। তবে শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, গত দুই নির্বাচনের সময়ও একই ধরনের শক্তি থাকার পরও যেসব আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে, এবার আরও কম আসন দেওয়ার জন্য হয়তো শক্তির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া জাসদের একজন নেতা বলেন, আসন ছাড়ের বিষয়টি এবার সম্মানের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গেল বারে ছার দেওয়া আসনগুলোয় এবার ছার দেওয়া না হলে তা হবে অসম্মানজনক। সে কারণে অন্তত তিনটি আসনে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থান জানানো হয়েছে। কোন দলকে কত আসনে ছাড় দেবে এবং কোন কোন আসনে ছাড় দেবে এই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের।

এদিকে মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) এক ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘১৪ দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটা সমঝোতা অবশ্যই হবে। আজকালের মধ্যেই আসনবণ্টনের বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ১৪-দলীয় জোটের প্রত্যাশা কত, আর তারা পাবে তার বাস্তবতা কতটা— দুটি বিষয় মিলেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। তাদের কিছু হয়তো নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন, কিন্তু তাদের অন্য প্রার্থীরা তাদের নিজেদের মার্কায় নির্বাচন করবেন।’

সোমবার ১৪-দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৪ দলের সঙ্গে আমাদের বৈঠকটা আসন ভাগাভাগির চেয়ে রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিষয়টাকেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। মাঝেমধ্যে ১৪ দলের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়, গতকালও (সোমবার) হয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনাই বেশি হয়েছে।’