• রোববার   ২২ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৯

  • || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
রূপপুর মেটাবে বিদ্যুতের চাহিদা, দেবে লাভও দ্রব্যমূল্য নিয়ে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ দফা প্রস্তাব অবিলম্বে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করার আহ্বান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশবান্ধব: প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে পদ্মায় ফেলতে আর ইউনূসকে চুবিয়ে তুলতে বললেন শেখ হাসিনা কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের রিফুয়েলিং পয়েন্ট কক্সবাজারে যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে কউক’র নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি আওয়ামী লীগ সরকার আছে বলেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে- প্রধানমন্ত্রী ওপেনিংয়ে চতুর্থ সেরা জুটি গড়ে ফিরলেন জয়, তামিমের সেঞ্চুরি নিত্যপণ্যের দাম কেন চড়া, জানালেন প্রধানমন্ত্রী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: শেখ হাসিনা দেশের মানুষের শেষ ভরসাস্থল শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির নিরাপদ আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ইতিহাসে মাইলফলক: রাষ্ট্রপতি চার দশকেরও বেশি সময় শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে আ.লীগ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য সাশ্রয় করুন: প্রধানমন্ত্রী সবাই স্বাধীনভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী টাকা অপচয় করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করার কঠোর পরিণতি

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ৯ মে ২০২২  

আত্মীয়-স্বজন পরস্পরের জন্য আল্লাহর রহমত। মেহমান আল্লাহর পক্ষ থেকে মেজবানের জন্য রহমত নিয়ে হাজির হন। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা আত্মীয়তার সুসম্পর্ক রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুসম্পর্ক রক্ষা করা দুই পক্ষের উপরই নির্ভর করে। কিন্তু একপক্ষ যদি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে চায় আর অন্যরা তাতে সহযোগিতা না করে তবে সুসম্পর্ক রক্ষাকারীদের সঙ্গে থাকে আল্লাহর পক্ষ সাহায্য। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কী সেই দিকনির্দেশনা?

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ। যদি কেউ সদাচরণ করা সত্বেও অন্যরা বিরূপ আচরণ করে তবে সদাচরণকারীর জন্য রয়েছে রহমত ও ফেরেশতাদের সাহায্য আর বিরূপ আচরণকারীর জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার আত্মীয়-স্বজন আছেন। আমি তাদের সঙ্গে সদাচরণ করি; কিন্তু তারা আমাকে বিচ্ছিন্ন (সম্পর্ক ছিন্ন) করে রাখে। আমি তাদের উপকার (দয়া-মায়া) করে থাকি, কিন্তু তারা আমার অপকার (বিরূপ) করে। আমি তাদের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করে থাকি আর তারা আমাকে কষ্ট (মূর্খসুলভ আচরণ করে) দেয়।
তখন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি যা বললে, প্রকৃত অবস্থা যদি তাই হয়, তবে তুমি যেন তাদের উপর জ্বলন্ত অঙ্গার নিক্ষেপ করছ (তাদের মুখে আগুনের জলন্ত কয়লা ঢুকিয়ে দিচ্ছ)। আর সব সময় তোমার সঙ্গে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিপক্ষে একজন সাহায্যকারী (ফেরেশ্‌তা) থাকবে; যতক্ষণ তুমি এ অবস্থায় বহাল থাকবে।' (মুসলিম)

 

সুতরাং দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের উচিত, শুধু আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেই নয় বরং সব মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। সদাচরণ করা। চাই অন্যরা তার সঙ্গে সদাচরণ করুক কিংবা না করুক। যারাই আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের জন্য থাকবে ফেরেশতাদের সাহায্য ও সহযোগিতা। যেমনটি ঘোষণা করেছে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই সুসম্পর্ক রক্ষায় প্রত্যেকের জন্য নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকা জরুরি।

হাদিসের দিকনির্দেশনা
১. প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো নিজেদের আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
২. বিরূপ আচরণ সত্বেও যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে, তার প্রতি থাকবে আল্লাহর সাহায্য ও রহমত।
৩. যারা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে অনীহা প্রকাশ করে কিংবা বিরূপ আচরণ করে তাদের জন্য রয়েছে জলন্ত আগুনের শাস্তি।
৪. ফেরেশতারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারীর সঙ্গে থেকে তাদের কল্যাণ কামনা করবেন, সাহায্য করবেন।
৫. আর যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারীর সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে ফেরেশতারাও তাদের বিপক্ষে অবস্থান নেবে।

হাদিসের নির্দেশনা অনযায়ী সদাচরণকারী ব্যক্তির জন্য থাকবে ফেরেশতার সাহায্য। প্রত্যেক মানুষ যদি নিজেদের মধ্যে সচাদরণের অনুশীলন করে তবে সমাজও শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করবে। থাকবে না কোনো অশান্তি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককেই আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখার এবং পরস্পরের প্রতি সদাচরণ করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।