• মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২০ ১৪২৯

  • || ০৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
কাউকে যেন কষ্ট না পেতে হয়: প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পিজিআরকে রাষ্ট্রপতি জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, মোনাজাত পদ্মা সেতুতে সন্তানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি ‘পদ্মা সেতু ও রপ্তানি আয় জাতির সক্ষমতা প্রমাণ করছে’ টোল দিয়ে পদ্মা সেতুতে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী, গাড়ি থামিয়ে উপভোগ করলেন সৌন্দর্য পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব জনগণের: প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় দেশকে এগিয়ে নিতে পেরেছি পারিবারিক আদালত আইনের খসড়া অনুমোদন ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলছে না ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোলেনি সরকার: প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুতে নাশকতার চেষ্টা: আটক ১ সঞ্চয় বাড়ানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা হচ্ছে নতুন মুদ্রানীতি সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস হচ্ছে আজ নির্মল রঞ্জন গুহের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সায়মা ওয়াজেদের মমত্ববোধ রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে সেতু-উড়াল সড়ক নির্মাণের নির্দেশ

সুসম্পর্ক রক্ষায় নবিজীর (সা.) নির্দেশনা

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২  

ভালোবাসা পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখার মর্যাদা অনেক বেশি। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনায় অনেক উপদেশ দিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন চমৎকার ফজিলত। সেসব উপদেশ এবং ফজিলতগুলো কী?

মানুষকে পাস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্টকারীদের প্রতি অভিশম্পাত করেছেন। যারা সুসম্পর্ক নষ্ট করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করে তাদের দোয়াও কবুল হয় না। মহান আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করেন না। এ কারণেই নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও ভালোবাসা বজায় রাখতে ঘোষণা করেছেন উপদেশ ও ফজিলত। তাহলো-

১. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, যারা আমার মর্যাদার খাতিরে পরস্পর একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসা স্থাপন করেছে, তারা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার বিশেষ ছায়ায় স্থান দেব। আজ এমন দিন, আমার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া নেই।’ (মুসলিম, মিশকাত)

২. হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেছেন- যারা আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশে পরস্পরকে ভালোবাসে, আমার উদ্দেশে দ্বীনি মজলিসে মিলিত হয়, আমার উদ্দেশে পরস্পরে সাক্ষাৎ করে এবং আমার উদ্দেশ্যেই নিজেদের মাল-সম্পদ ব্যয় করে; তাদের জন্য আমার ভালোবাসা সুনিশ্চিত।’ (মুয়াত্তা মালেক, মিশকাত)

৩. হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ভাল এবং মন্দ লোকের সঙ্গে বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত যথাক্রমে আতর বিক্রেতা ও কামারের হাঁপরে ফুঁক দানকারীর মতো। আতর বিক্রেতা হয়তো তোমাকে এমনিতেই কিছু আতর দিতে পারে অথবা তুমি তার কাছ থেকে কিছু কিনে নিতে পার, অন্যথা তুমি তার (কাছে) সুঘ্রাণ পাবেই। আর কামারের হাঁপরের ফুলকি তোমার জামা-কাপড় জ্বালিয়ে দিতে পারে। এটা না হলেও তুমি তার ধোঁয়ার গন্ধ পাবেই।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত কাউকে ভালোবাসলে তা আল্লাহর জন্য ভালোবাসা। আবার কাউকে ঘৃণা করলেও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা। মানুষ যখনই কাউকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসবে, আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হয়।

মনে রাখা জরুরি

বন্ধুত্বের মর্যাদা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপদেশ  প্রদান করেছেন। আর তাহলো-

হজরত মিকদাদ ইবনে মাদিকারাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো (মুসলমান) ভাইকে মহব্বত করে, তখন তাকে যেন জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে মহব্বত করে।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত)

ভালোবাসার কথা জানিয়ে দেয়ার মাধ্যমে মানুষের পাস্পরিক সুসম্পর্ক আরো বেশি মজবুত হয়। সৃষ্টি হয় ফেতনা-ফাসাদমুক্ত সমাজ। সুসম্পর্ক রক্ষায় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসগুলোর স্মরণ ও আমল জরুরি। তাইতো নবিজী আরো ঘোষণা করেন-

হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘ঈমানদার ছাড়া কাউকেও বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। আর পরহেযগার ছাড়া অন্য কেউ যেন তোমার খাদ্য না খায়।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত উপদেশ ও ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।