• মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৩ ১৪৩০

  • || ১৫ শা'বান ১৪৪৫

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
জনগণের আস্থা অর্জন করলে ভোট পাবেন: জনপ্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজের ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছিলাম কেউ যেন ভুয়া ক্লিনিক-চিকিৎসকের দ্বারা প্রতারিত না হন: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার বিভাগে বাজেট বরাদ্দ ৬ গুণ বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকারকে মাটি-মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়তে হবে শবে বরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান সমাজের অসহায়, দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে বিচারকদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধকল্পে খেয়াল রাখার আহ্বান মিউনিখ সফরে বাংলাদেশের অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে পবিত্র রমজানে নিত্যপণ্যের সংকট হবে না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের আহ্বান সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: শেখ হাসিনা হঠাৎ টাকার মালিক হওয়ারা মনে করে ইংরেজিতে কথা বললেই স্মার্টনেস ভাষা আন্দোলন দমাতে বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরীণ রাখা হয় : সজীব ওয়াজেদ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিকার পেয়েছে অশিক্ষার অন্ধকারে কেউ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী একুশ মাথা নত না করতে শেখায়: প্রধানমন্ত্রী

রেল যাবে কক্সবাজারে, পর্যটন খাত এগোবে আরেক ধাপ

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২২  

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একদফা সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারের এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৭৬ শতাংশ।

আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান। আগামী বছরের আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রেল চলাচল শুরুর আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

একইসাথে এই রেলপথের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে কক্সবাজারের ঝিনুকের আদলে করা দেশের প্রথম আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে। এর ফলে দেশের পর্যটন খাত এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার আর দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। বর্তমানে দোহাজারী পর্যন্ত রেললাইন আছে। এজন্য দোহাজারী থেকে রামু হয়ে বন-পাহাড় নদী পাড়ি দিয়ে রেলপথটি যাচ্ছে কক্সবাজারে। নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার। কক্সবাজারের রামু, ঈদগাঁও, পেকুয়া ও চকরিয়া অংশে রেলট্র্যাক বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।

রেলপথের কাজের অগ্রগতির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চালু করার আশা করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার। ওই সময়ে কিছু বৃষ্টিপাত থাকে। তবে আশা করছি ২৩ সালের আগস্টের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু করতে পারবো।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণে হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নির্বিঘ্নে চলাচল করার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এই রেলপথে হাতি চলাচলে একটি ৫০ মিটার দীর্ঘ ওভারপাস ও তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে।

পাহাড় কেটে সমতল করে একটি ওভারপাস করে হাতি ও অন্যান্য প্রাণী চলাচলের পথটি স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ করতে ওভারপাস নির্মাণের কাজ চলছে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক। আর এই ওভারপাসের নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন।  নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি আন্ডারপাসও। আন্ডারপাস দিয়ে চলবে ট্রেন। তিনটি আন্ডারপাসের কাজ শেষ বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের মূল্য বাড়ার কারণে সব ধরনের নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়লে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প পরিচালক।

কক্সবাজারের ঝিলংঝা ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া এলাকায় তৈরি হচ্ছে ঝিনুক আকৃতির আইকনিক ভবন। দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশন এটি। ২৯ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা রেলস্টেশন ভবনটি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুটের। ভবনটি হবে ছয়তলা।

মূল ভবনের সামনে খোলা মাঠে তৈরি হবে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন একটি ফোয়ারা। যাত্রীরা ঝিনুক ফোয়ারা দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করবেন। এই স্টেশনটিতে পর্যটকেরা লাগেজ স্টেশনে রেখে সারা দিন সমুদ্রসৈকত বা দর্শনীয় স্থান ঘুরে রাতের ট্রেনে আবার ফিরতে পারবেন নিজ গন্তব্যে।

এছাড়া ভবনটিতে থাকবে অভ্যর্থনাকক্ষ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ, শপিংমল, রেস্তোরাঁ, তারকাকামানের হোটেল, রেস্তোরাঁ, কনফারেন্স হল।

রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, স্বপ্নপূরণের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ। আইকনিক রেলস্টেশনের ছয়তলা ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন ফিনিশিং কাজ চলছে।

‘ঘুড্ডি’ নামে একটি পর্যটন সংস্থার স্বত্বাধিকারী রিয়াজ আহমেদ বলেন, যদি কক্সবাজারে ট্রেন যায় এবং যাত্রীরা সহজেই টিকিট পায় তাহলে উপকৃত হবে পর্যটন খাত। চাহিদা অনুযায়ী যদি রেলসেবা ও বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা যায় তাহলে দেশের পর্যটন খাতের আমূল পরিবর্তন হবে। বাসের চেয়ে ট্রেনে চলাচল আরামদায়ক হবে। বিশ্বের সব দেশেই পর্যটকদের জন্য আলাদা ট্রেন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে এক দফা বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ করা হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও ব্যয় বাড়েনি।

২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল প্রকল্পটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। রেলপথটি নির্মিত হলে মিয়ানমার, চীনসহ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের করিডোরে যুক্ত হবে বাংলাদেশ।

প্রথম পর্যায়ে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে ১০০ কিলোমিটার রেলপথ। দ্বিতীয় পর্যায়ে রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮.৭২৫ কিলোমিটার নতুন সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মিত হবে। এতে দুটি (উখিয়া ও ঘুমধুম) নতুন স্টেশন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এরজন্য ৩৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণও করা হবে।