• শনিবার ২৫ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩১

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
ঢাকায় কোনো বস্তি থাকবে না, দিনমজুররাও ফ্ল্যাটে থাকবে অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি বঙ্গবাজারে বিপণী বিতানসহ চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন নজরুলের বলিষ্ঠ লেখনী মানুষকে মুক্তি সংগ্রামে উদ্দীপ্ত করেছে জোটের শরিক দলগুলোকে সংগঠিত ও জনপ্রিয় করতে নির্দেশ সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে রেমাল বঙ্গবাজার বিপনী বিতানসহ ৪ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী কৃষিতে ফলন বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী বাজার মনিটরিংয়ে জোর দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক’ দেবে বাংলাদেশ ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক রাইসি-আমির আব্দুল্লাহিয়ান মারা গেছেন: ইরানি সংবাদমাধ্যম সকল ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিতে কাজ করছে বিএসটিআই: প্রধানমন্ত্রী চাকরির পেছনে না ছুটে যুবকদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান ‘সামান্য কেমিক্যালের পয়সা বাঁচাতে দেশের সর্বনাশ করবেন না’ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আগামীকাল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বদলাচ্ছে ধর্ষণের সংজ্ঞা প্রস্তাবে যুক্ত তৃতীয় লিঙ্গ

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৪  

নারী নির্যাতন দমনে নতুন আইন আসছে। এ আইনের খসড়ায় ‘শিশু’ শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের সংজ্ঞায়ও আসবে পরিবর্তন। বিশ্বের অনেক দেশের সমসাময়িক বাস্তবতায় যৌন নিপীড়ন ও বিকৃত যৌনাচারকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আলোকে খসড়ায় ধর্ষণের সংজ্ঞা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। আইনটির ব্যাপারে এরই মধ্যে চাওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মত।

গতকাল মঙ্গলবার মাঠ পর্যায় ও নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তাদের মত জানতে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ওই বৈঠকে ডিএমপি কমিশনার ছাড়াও অতিথি হিসেবে একাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। নতুন আইনের ব্যাপারে পুলিশ তাদের বেশ কিছু মত তুলে ধরে। তা পুলিশ সদরদপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পুলিশের প্রস্তাবে এ আইনে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) নাগরিকের বিচার পাওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট একটি ধারা যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তৃতীয় লিঙ্গের কেউ ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে মামলার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। তাদের পরিচয়ের ব্যাপারে এ আইনে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, নতুন আইনে তৃতীয় লিঙ্গের বিষয়টি যুক্ত করার যে প্রস্তাব, এটি ইতিবাচক। বিভিন্ন সময় আমরাও এমন দাবি করেছিলাম। নতুন আইনের পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সাপোর্ট সার্ভিসগুলো আরও কার্যকর করতে হবে। বিচার পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করা জরুরি।

ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, পুলিশ মাঠ পর্যায়ে যেসব সমস্যায় পড়ে, সেসবই নতুন আইনে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। সবার সুপারিশসহ এটি মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটিতে যাবে। এর পর ভেটিং হবে। নতুন আইন পাস হলে বর্তমানের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন রহিত হবে। তবে পুরোনো মামলার বিচার এ আইনে চলবে।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০ হাজার মামলা হয়। এর মধ্যে থানায় হয় ১৮ হাজার ৯৪১টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩৮টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ৩৪ হাজার মামলায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচার চলছে।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকার নতুন যে আইনটি করার কথা চিন্তা করছে, সেখানে কী কী বিষয় যুক্ত করা যেতে পারে, তার একটি প্রস্তাবনা পুলিশের তরফ থেকে দেওয়া হবে। কারণ আইনের ভালো-মন্দ বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে পুলিশ। মামলা, তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলের সময় বাদী-বিবাদী উভয়ের সমস্যা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। নতুন আইনে যেহেতু শুধু নারীকে যুক্ত করা হয়েছে, তাহলে ছেলেশিশু ধর্ষণ (বলাৎকার) বা যৌন নিপীড়নের শিকার হলে তার আইনি প্রক্রিয়া কী হবে? এতে বিদ্যমান শিশু নির্যাতন আইন সংশোধন করার প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ। ছেলেশিশুরা ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হলে সে আইনে যাতে মামলা করার বিধান থাকে, এটি নিশ্চিত করার ব্যাপারে মত দেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশ বলছে, ছেলেশিশু নিপীড়নের শিকার হলে দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারাও প্রয়োগ করা যায়।

ধর্ষণের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে নতুন একটি ধারণা যুক্ত করার ব্যাপারে মতামত দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের যুক্তি হলো, এখন ধর্ষণের অনেক মামলার এহাজারে ভুক্তভোগী লেখেন– বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ বছরের অধিক বা কেউ বিবাহিত হলেও এজাহারে এ বিষয়টি লেখা থাকে। অনেক ঘটনায় এমন নজির পাওয়া যায়– ছেলে-মেয়ে উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল ছেলে। মেয়ের সম্মতিতেই তাদের শারীরিক সম্পর্ক ছিল। এর পর মেয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে থাকলে বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যায় ছেলে। এমন বাস্তবতায় ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করছে নারী। সম্পর্কের সূত্র ধরে সম্মতি নিয়ে শারীরিক সম্পর্কের ঘটনায় ধর্ষণের যে মামলা হয়, আদালতে গিয়ে তা ধর্ষণ বলে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক রায়ে বলা আছে, ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তাঁর সঙ্গে কারও শারীরিক সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগও খারিজ করেছেন। ভারতের উচ্চ আদালতও বিভিন্ন সময় বলেছেন, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না। নতুন আইনে পুলিশের প্রস্তাব হলো– বিয়ের প্রলোভনে বা বিশ্বাস স্থাপন করার পর টানাপোড়েনে এক পর্যায়ে যে মামলা হয়, সেটিকে ধর্ষণ না বলে ‘শারীরিক সম্পর্ক’ নামে  সংজ্ঞায়িত করা। শারীরিক সম্পর্কের ধারায় আসামির বিচার নিশ্চিত করা। এ ছাড়া যৌতুকের ক্ষেত্রে নতুন ধারা সংযুক্ত করার পরামর্শ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তাদের মত, বিদ্যমান আইনে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে– যৌতুকের মামলা চলাকালে সামাজিক উদ্যোগ বা অন্য কোনো কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়। তাই বাস্তবতার নিরিখে যৌতুকের ক্ষেত্রে আপসরফার একটি বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেবে পুলিশ।

এরই মধ্যে নতুন আইনের খসড়া প্রণয়নের একটি ধারণাপত্র আইন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। সেখানে বলা হয়, সামাজিক বিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নারীর ওপর নির্যাতনের নতুন ধরন ও মাত্রা শুধু ‘পেনাল কোড’ দ্বারা প্রতিকার করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় ১৯৮৩ সালে নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ (১৯৮৩ সালের ৬০ নম্বর অধ্যাদেশ) নামে একটি আইন প্রণীত হয়। তবে আইনের অধীনে সংজ্ঞায়িত অপরাধ ও অপরাধের শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ হওয়ায় ১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইন প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিচারকালে এ আইনেরও সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর সমাধানে নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত অপরাধ কঠোরভাবে দমন, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন নামে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০০৩ সালের ৩০ নম্বর আইনের মাধ্যমে এ আইনে আরও কিছু সংশোধনী আনা হয়। নারী ও শিশুদের প্রতি অপরাধ দমনের মূল আইন হিসেবে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ বলবৎ আছে। আইনটি পাস হওয়ার প্রথম দিকে বেশ কয়েক বছর দেশের নারী ও শিশুদের নির্যাতনের মামলায় মোটামুটি প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছিল বলে মনে করা হলেও আইনটি প্রণয়নের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য পূরণ সন্তোষজনক নয় বলে সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে জানা যায়, গত ৭ বছরে ধর্ষণ বা যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে বেশ কয়েক হাজার মামলার মধ্যে ঢাকার ৪টি ট্রাইব্যুনালে অল্পসংখ্যক আসামির শাস্তি বা দণ্ড হয়েছে। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কার্যকরভাবে প্রতিরোধে সক্ষম না হওয়ার বিষয়ে আইনটি নানা মহল থেকে সমালোচনার মুখে পড়ে। প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো– অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তির খালাস, গুরুদণ্ড দেওয়ার হার নিম্নমুখী হওয়া, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মামলা প্রমাণিত না হওয়ায় খারিজ হয়ে যাওয়া। আইনটির অপপ্রয়োগের হারও আশঙ্কাজনক। এ প্রেক্ষাপটে বিচারকরাও দোষী সাব্যস্ত করতে ও গুরুদণ্ড আরোপে সাবধানতা অবলম্বন করতে অনেকটাই বাধ্য হন। এ সংকট নিরসনে আইনটির সার্বিক সংস্কার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়– ২০১৩ সালে শিশু আইন তৈরি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শিশু-সংক্রান্ত সব ধরনের বিধান স্বয়ংসম্পূর্ণ শিশু আইনে একত্রিত রাখাই অধিকতর সুবিধাজনক বলে মনে করা হয়েছে।

পৃথক শিশু আইন এবং ওই আইনের অধীনে নতুন শিশু আদালত রয়েছে। তাই বিদ্যমান আইন থেকে শিশু-সংক্রান্ত সব ধারা বিলুপ্ত করে নতুন আইনের শিরোনাম করা হয়েছে ‘নারী নির্যাতন দমন আইন, ২০২১’। আর নারী বলতে সব বয়সের নারী বোঝায়। তাই মেয়ে শিশুরাও নারী জাতিভুক্ত। নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিশেষ অপরাধ ধর্ষণ শিশুসহ যে কোনো বয়সের নারীর ওপর সংঘটিত হতে পারে।

নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রায়ই দেখা যায়, বাসাবাড়িতে কাজে সাহায্যকারী নারী ও শিশুদের ওপর গৃহকর্ত্রীরা গরম পানি, তেল বা গরম খুন্তি দিয়ে নির্যাতন করে। এটি নারী বা শিশুর যে কোনো শারীরিক বিকৃতি, অঙ্গহানি বা দৃষ্টিহানি ঘটাতে পারে। বর্তমান আইনে বাসার সাহায্যকারীর ওপর সংঘটিত অপরাধের বিচার করা কঠিন হতে পারে। কাজেই প্রস্তাবিত আইনে কোনো তীব্র জ্বালাদায়ক দহনকারী তরল পদার্থ বা ধাতব বস্তুর কথা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান আইনে অপহরণের চেষ্টা এবং অপহরণের পর হত্যার অপরাধের দণ্ডের কথা বলা নেই। অপরাধের শিকার নারীর সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আইনে নারী অপহরণ এবং অপহরণ চেষ্টার শাস্তি, অপহরণের পর অপহৃত নারীকে হত্যার জন্য শাস্তি এবং অপহরণকারীর হেফাজতে থাকাকালীন অপহৃত নারীর মৃত্যু ঘটানোর শাস্তির বিধান সংযুক্তি করা হয়। বর্তমান আইনে অপরাধের শাস্তি কিছুটা অসংগতিপূর্ণ বলে মত এসেছে। প্রস্তাবিত আইনে সচেতনভাবেই কারাদণ্ডের অন্যূন মেয়াদ বলা হয়নি, যাতে বিচারকরা ঘটনার প্রেক্ষাপটে শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণ করতে পারেন।

এ ছাড়া দণ্ডবিধির সংজ্ঞায় ধর্ষণ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ‘সম্মতি’ শব্দ নেই। বিচারের সময় অনেক ধর্ষণের মামলাতে অপরাধের শিকার নারীর সম্মতির প্রশ্নে তাঁর চিৎকার ও বাধাজনিত শারীরিক চিহ্নের ওপর খুব বেশি জোর দেওয়া হয়। অথচ সব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর শরীরে ধর্ষণজনিত অত্যাচারের চিহ্ন নাও থাকতে পারে। ধর্ষণের সম্মতির ব্যাপারে আইনে ১৬ বছরের বেশি বয়সের কোনো নারী এবং ১৬ বছরের কম বয়সের কোনো নারীর সম্মতির ধরন ও প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কেননা, ১৬ বছরের কম বয়সের কোনো নারীর ক্ষেত্রে সম্মতি মূল্যহীন হলেও অনেক সময় দণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। বর্তমান আইনে পুলিশ হেফাজতে কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হলে হেফাজতের জন্য দায়ী ব্যক্তির অনধিক ১০ বছর ও ন্যূনতম পাঁচ বছর কারাদণ্ডের সঙ্গে অন্যূন ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে। যেহেতু হেফাজতকারীর অবহেলার কারণে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তাই নতুন আইনে অর্থদণ্ডের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৫ ধারায় ‘ধর্ষণ’কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী, পাঁচ অবস্থায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য করা হয়েছে। প্রথমত, নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে। দুই, নারীর সম্মতি ছাড়া। তিন, নারীর সম্মতি আদায়, তবে তা মৃত্যু কিংবা জখমের ভয় দেখিয়ে। চার, নারীর সম্মতি নিয়ে। কিন্তু পুরুষটি জানে, সে ওই নারীর স্বামী নয়। ওই নারী তার সঙ্গে আইনসংগতভাবে বিয়ে হয়েছে বা বিবাহিত বলে সে বিশ্বাস করে। পাঁচ, নারীর সম্মতিসহ বা সম্মতি ছাড়া তবে সেই নারীর বয়স যদি হয় ১৪ বছরের কম।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার অবহেলা, ধর্ষণের শিকার নারীর চিকিৎসা, আলামত সংগ্রহ এবং গোপনীয়তা রক্ষায় ফরেনসিক পরীক্ষায় অহেতুক দেরি হলে জড়িতরা দায়বদ্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের বিধান ইতিবাচক। এতে দ্রুত তদন্ত শেষ করা সম্ভব হবে।