• শুক্রবার   ১৯ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ২০ মুহররম ১৪৪৪

আলোকিত ভোলা
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আ. লীগের নেতারা কী করেছিলেন: প্রধানমন্ত্রী সুশীল বাবু মইনুল খুনিদের নিয়ে দল গঠন করে: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতরা আজ মানবাধিকারের কথা বলে: প্রধানমন্ত্রী ভারত পারলে আমরাও রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবো: প্রধানমন্ত্রী ‘ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছি’ খবরদার আন্দোলনকারীদের ডিস্টার্ব করবেন না: প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার মৃত্যু নেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বঙ্গবন্ধু আমাদের রোল মডেল শোক দিবসে বঙ্গভবনে বিশেষ দোয়ার আয়োজন রাষ্ট্রপতির টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যার নির্দেশ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত মানবাধিকার কমিশনকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির ৪০০তম ওয়ানডে খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তা: বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বঙ্গমাতার মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গমাতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর সারথি ছিলেন আমার মা: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গমাতা কঠিন দিনগুলোতে ছিলেন দৃঢ় ও অবিচল: রাষ্ট্রপতি

স্বপ্ন এখন পাতাল রেল

আলোকিত ভোলা

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২২  

পদ্মা সেতুর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হওয়ার পথে। এখন স্বপ্ন মাটির নীচের ‘পাতাল রেল’। পাশের দেশ ভারতের কোলকাতাসহ বিশ্বের বহু মহানগরীতে যানজট কমানো এবং নাগরিকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে মাটির নীচ দিয়ে পাতাল রেল লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশও সেই পাতাল রেলের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। নিত্য যানজট থেকে মুক্তি পেতে রাজধানীর ঢাকার মানুষের এটাই এখন স্বপ্ন। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) রাজধানী ঢাকায় ৬টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৩৩.৫৭ কিলোমিটার হবে পাতাল রেল। সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ঢাকার গাবতলী ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ও বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার পাতাল রেল নির্মাণ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে ঢাকা ম্যাস ট্র্যানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে পাতাল রেলের ডিপোর ভূমি উন্নয়নের মধ্য দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হবে। প্রাথমিক কাজের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্স হস্তান্তর করেছে। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাতাল রেল মাটির কমবেশি ৩০ মিটার নিচ দিয়ে যাবে। টানেল বোরিং মেশিন দিয়ে এর নির্মাণকাজ চালানো হবে।

যানজটের নগরী ঢাকাকে একটু স্বস্তি দিতে ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। কিন্তু পূর্বের নেয় উদ্যোগগুলোতে তেমন কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাজধানীর যানজট নিরসন করে নগরবাসীকে একটু সাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য একাধিক ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলেও শতভাগ উপকার পাননি সাধারণ মানুষ। বরং এখন যানজট নিরসনের জন্য নির্মিত ফ্লাইওভারের কয়েকটিতে নিয়মিতই যানজট লেগে থাকে। এছাড়ার এসব ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তাতেও যানজট এখন নিত্যসঙ্গী। আবার এসব ফ্লাইওভারের নিচে নির্মাণ করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশন। আর এসব ডাম্পিং স্টেশনের ময়লার কারণে পথচারীরা পড়ছেন দুর্ভোগে। ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার স্তুপ থাকার কারণে সৌর্ন্দয্যহীণ হয়ে পড়ছে রাজধানীর সড়কগুলো।

তবে যানজট থেকে স্থায়ী স্বস্তি দিতে পাতাল রেলের নতুন যুগে প্রবেশ করছে যানজটের নগরী ঢাকা। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর মধ্যে পাতাল রেলের নতুন যুগে প্রবেশ করবে। রাজধানী ঢাকায় ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল)। বিমানবন্দর-বাড্ডা-কমলাপুর রুটে সড়কের নিচ দিয়ে চলবে দ্রুতগতির এ ট্রেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ মেট্রো লাইন নির্মাণে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।

প্রথমপর্যায়ের নির্মাণকাজ কমলাপুর থেকেই শুরু হবে বলে জানান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক। ডিএমটিসিএল ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসন, পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে ছয়টি মেট্রোরেলের সমন্বয়ে গঠিত। ২০৩০ সালের মধ্যে ১২৯ কিলোমিটারের ৬টি এমআরটি (মেট্রোরেল) লাইনের কাজ শেষ করা হবে। এই ৬টি লাইনের কাজ শেষ হলে মেট্রোরেলে প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ যাত্রী পরিবহন করা যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মেট্রোরেল লাইন-৫ প্রকল্পের আওতায় ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাতাল মেট্রোরেল এবং ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এবার জাপানের সঙ্গে ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের মধ্যে চলমান মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে বিনিময় নোট ঋণচুক্তি সই হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত আইটিও নাওকির মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউহো হায়াকাওয়া নিজ দেশের পক্ষে এ ঋণচুক্তিতে সই করেন।